দেশে স্থানীয়ভাবে ছড়াচ্ছে ভারতে পাওয়া করোনার ধরন

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৩০, মে, ২০২১, রবিবার
<strong>দেশে স্থানীয়ভাবে ছড়াচ্ছে ভারতে পাওয়া করোনার ধরন</strong>

অনলাইন ডেস্ক : দেশে কোভিড আক্রান্ত ২৩ জনের নমুনায় এখন পর্যন্ত ভারতে পাওয়া বি.১.৬১৭ ধরনটি শনাক্ত হয়েছে৷ তাদের মধ্যে মারা গেছেন দুই জন৷ স্থানীয়ভাবেও ভ্যারিয়েন্টটি ছড়াতে শুরু করেছে৷

সীমান্তের ১৫ জেলার মধ্যে এখন করোনারসর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ৷ সেখানে চলছে লকডাউন৷ যদিও সংক্রমণ কিছুটা কমে আসছে৷

এই জেলায় ২৪ মে রাত ১২ টার পর থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে৷ চলবে ৩১ তারিখ রাত ১২ট পর্যন্ত৷ সিভিল সার্জন জানান, ‘‘লকডাউন চলাকালে সরকারি হিসেবে দুইজন ভারত থেকে এসেছেন৷ কিন্তু এখানে চোরাচালানসহ ক্রসবর্ডার কার্যক্রম অনেক বেশি৷ ফলে অনেকেই এখনও ভারতে আসা যাওয়া করছেন অবৈধভাবে৷ আমরা চেষ্টা চেষ্টা করছি, প্রশাসন চেষ্টা করছে৷ আর লকডাউন মানুষ মেনে নিয়েছে৷”

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২২, ২৩ ও ২৪ মে এই তিনদিনে ২১২ টি নমুনার বিপরীতে করোনা শনাক্ত হয় ১৩১ জনের৷ হার শতকরা ৬২ ভাগ৷ ২৭ মে ৫৬টি নমুনার বিপরীতে ৩৩ জন শনাক্ত হন৷ হার ৫৯ শতাংশ৷ ২৮ মে ১১৩টি নমুনার বিপরীতে শনাক্ত হয়েছেন ২৮ জন৷ ২৯ মে ২২৯টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে৷ সেখানে শুক্রবার সর্বোচ্চ চারজনের মৃত্যু হয়েছে৷

আইইডিসিআর-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘এপর্যন্ত মোট ১৮০ জন করোনা রোগীর জেনম সিকোয়েন্স করা হয়েছে তারমধ্যে ২৩ জনের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট নিশ্চিত হওয়া গেছে৷ তাদের সাতজন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাঁচজন যশোর এবং বাকিরা ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের৷” একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরিন ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ২৩ জনের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন৷ আর ১৬ জনই সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সফর করেছেন৷ ভারত সফর করেননি সাত জন৷”

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, ১৯ তারিখে ওই জেলা থেকে আরো ৪২ জনের জেনোম সিকোয়েন্স পাঠানো হয়৷ তাদের মধ্যে সাতজন ভারতে শনাক্ত ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন৷

শনিবার ৪৫৩টি নমুনার র‍্যাপিড টেস্ট করে ৪৫ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে বলে সিভিল সার্জন জানান৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি খুশি যে সংক্রমণের হার কমছে৷”

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাশের জেলা নাটোরকে শনিবার হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে৷

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৭ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সাত দিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে৷ সেখানে ১৫টি সীমান্ত জেলায় করোনা পরিস্থিতির অবনতির কথা বলা হয়েছে৷

ভারতীয় সীমান্তবর্তী জেলাগুলো হলো: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, লালমনিটরহাট, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, রাজশাহী, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, জামালপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান৷ সীমান্ত এলাকার বাইরে আছে নাটোর, গাইবান্ধা, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, কক্সবাজার ও নরসিংদী৷

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এটা এখন স্পষ্ট যে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে৷ যারা ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা কখনোই ভারতে যাননি৷ এখন যদি এটা সামলানো না যায় তাহলে সারা দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়তে পারে৷”

তার মতে, করোনা পজিটিভ হলেই ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায় না৷ এর জন্য প্রয়োজন জেনম সিকোয়েন্স যা এখন সীমিত আকারে পরীক্ষা করা হচ্ছে৷ পরীক্ষার হার বেশি হলে পরিস্থিতি আরো ভালো বোঝা যেত৷

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত বন্ধ আছে৷ বন্ধ সড়ক ও আকাশপথে যোগাযোগও৷ তবে অধ্যাপক কামরুল ইসলাম মনে করেন, এক্ষেত্রে আরো কঠোর হওয়া দরকার৷ চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউনচললেও সেখান থেকে ১২ জন আক্রান্ত ঝিনাইদহ চলে যান৷ এমন পরিস্থিতি ঠেকাতে হবে৷

ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, ‘‘ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এখন স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে৷ এটা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে৷ মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে৷”

বাংলাদেশে করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় আরো ৩৮ জন মারা গেছেন৷ সনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৪৩ জন৷

ডয়চে ভেলে।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন