সিটিকে কাঁদিয়ে চেলসির স্বপ্নপূরণ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৩০, মে, ২০২১, রবিবার
<strong>সিটিকে কাঁদিয়ে চেলসির স্বপ্নপূরণ</strong>

স্পোর্টস ডেস্ক : চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপাটা চেলসি জিততে পারত ২০০৮ সালেই। মস্কোতে বৃষ্টিভেজা রাতে জন টেরি পা পিছলে যাওয়ায় সে বছর ট্রফিটা পাওয়া হয়নি তাদের। তবে সেই আক্ষেপ ঘুঁচেছে চার বছর পর এসে। ২০১২ সালে আরেকটি অবিশ্বাস্য রাতে বায়ার্নকে হারিয়ে চেলসির স্বপ্নপূরণ হয়েছে। ২০২১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরা হল ব্লুজরা।

শনিবার রাতে পোর্তোর স্তাদিও দো দ্রাগাওতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অল ইংলিশ ফাইনালে পেপ গার্দিওলার দলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে পিএসজি থেকে চাকরি হারানো টমাস টুখেলের দল। চেলসির হয়ে ইউরোপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে একমাত্র গোলটি করেছেন হ্যাভার্টজ।

এরআগে সর্বশেষ ছয় সপ্তাহের দুবারেই দেখাতেই ম্যান সিটি হেরেছে চেলসির কাছে। প্রথমবার এফএ কাপের সেমিতে, যেখানে গার্দিওলা মার খেয়ে গেছিলেন টুখেলের ট্যাকটিকসের কাছে। এরপরে প্রিমিয়ার লিগ জয়ের দুয়ারে এসে চেলসির কাছে হেরে পিছিয়ে যায় সিটির জয়োৎসব।

এমনিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে অনেক সময় দুই দল বেশি সতর্ক থাকে। তবে ম্যানচেস্টার সিটি ও চেলসি দুই দলই আজ শুরু থেকেই ঝাঁপিয়ে পরে আক্রমণে। ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ পেয়ে যান টিমো ভের্নার, কিন্তু ঠিক পজিশনে গিয়েও বেন চিলওয়েলের পাস থেকে শট নিতে পারেননি ঠিকমতো। এই চিলওয়েল সিটিকে প্রথমার্ধে সিটিকে ভুগিয়েছেন ভালোই। সেটার মাশুল অবশ্য পরে দিয়েছে সিটি।

ভের্নারের ওই সুযোগের পরেই আরেকটা দারুণ সুযোগ পেয়ে যায় চেলসি। এবারও বাঁদিক থেকে উড়ে আসা বলটা হেড করেছিলেন কান্তে, তাও আবার দুই ডিফেন্ডার ডিয়াজ ও স্টোনসের মধ্য দিয়ে। কিন্তু হেডটা চলে যায় ওপর দিয়ে। খানিক পর আরেকটা দারুণ সুযোগ পেয়ে যায় চেলসি ও ওয়ার্নার। এবার বল নিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকেও পড়েছিলে, শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা সরাসরি চলে যায় এডারসনের হাতে।

ওদিকে সিটিও গোলের গন্ধ পাওয়া শুরু করে। এডারসনের লম্বা পাস থেকে স্টার্লিং বল পেয়ে ঢুকে পড়েছিলেন বক্সে, কিন্তু গোল দিতে পারেননি। প্রথমার্ধে সিটির সেরা সুযগটা পেয়েছিলেন সম্ভবত ফিল ফোডেন। বক্সের ভেতর বাঁ পায়ের শটটা জালেই জড়িয়ে যেত, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আন্টনি রুডিগার ট্যাকল করে সেটা ফিরিয়ে না দিতেন।

শেষ পর্যন্ত প্রথম গোলটা পেয়ে যায় চেলসিই। বাঁদিকে চিলওয়েলের পাস থেকে মাউন্ট বল পেয়ে দুর্দান্ত এক থ্রু বাড়ান হ্যাভার্টজকে। আগুয়ান এডারসনের গায়ে লেগে করা তার ইকটা আবার এসে পরে হ্যাভার্টজের কাছে, এবার সামনে ফাঁকা পোস্ট। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম গোলটা সবচেয়ে বড় মঞ্চে করতে ভুল করেন নি এই জার্মান। ২০১৩ সালে ইলকে গুন্ডোয়ানের পর এই প্রথম কেউ চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম গোলটা ফাইনালেই করলেন। অন্যদিকে ২০০৮ সালে ওয়েস ব্রাউনের পর এই প্রথম কোনো ইংলিশ খেলোয়াড় চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে গোল করালেন।

দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটু তেঁড়েফুঁড়ে খেলতে থাকে সিটি। কিন্তু ৫৭ মিনিটে তারা শিকার হয় আরেকটু দুর্ভাগ্যের। রুডিগারের কড়আ ট্যাকলে পড়ে যান ডি ব্রুইন। আঘাতটা এতই গুরুতর ছিল, শেষ পর্যন্ত আর খেলা চালিয়েই যেতে পারেননি। চোখের জলে মাঠ ছাড়েন, তার জায়গায় নামেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। খানিক পর যেন রথমার্ধের ভুল সংশোধন করে ফার্নান্দিনহোকে নামান গার্দিওলা। সিটির খেলায় কিছুটা ধার বাড়ে, আজপিলিকুয়েতা ডান থেকে আসা ক্রসটা ক্লিয়ার করেন শেষ মুহূর্তে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের সবচেয়ে বড় সুযোগটা আসে ৭১ মিনিটে। কান্তের ধাক্কায় গুন্ডীয়ান পড়ে যাওয়ার পর বল যেয়ে যায় চেল্পসি। হ্যাভার্জের প্রতি আক্রমণের পর এডাইরসনকে ওয়ান অন ওয়ানে পেয়েছিলেন ভের্নারের বদলি হিসেবে নামা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। কিন্তু বাইরে মেরে দেন, চেলসি হারায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

এরপর চেষ্টা করেও আর গোল বের করতে পারেনি সিটি। আগুয়েরো নেমেছিলেন, একবার তার চিপটা বিপদ হতে পারত, কিন্তু দেননি চেলসি গোলরক্ষক চেলসি। শেষ দিকে ফোডেন বল পেয়ে গিয়েছিলেন বক্সে, কিন্তু ক্রিশ্চিয়েনসেন শেষ মুহূর্তে ব্লক করে আটকে দিয়েছেন ফোডেনকে। চেলসির রক্ষণ ছিল অটুট। শেষ দিকে আর বিপদ হতে দেয়নি, মাহরেজের শেষ মুহূর্তের শট ছাড়া কাছাকাছিও যেতে পারেনি সিটি। ইউরোপের রাজা তাই চেলসিই।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন