সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে গরুর মাংস পাক করতে না দেয়ার আবদার ও বর্তমান বাস্তবতা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৭, জুন, ২০২১, সোমবার
<strong>সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে গরুর মাংস পাক করতে না দেয়ার আবদার ও বর্তমান বাস্তবতা</strong>

পিনাকী ভাট্টাচার্যঃ আসলে সুপ্রিম কোর্টের ক্যান্টিনে গরুর মাংস পাক করতে না দেয়ার আবদারটা কোন আকস্মিক ঘটনা না। এইটা কোলকাতার জমিদারদের হারানো কালচারাল হেজিমনি বা সাংস্কৃতিক আধিপত্য স্থাপনের প্রচেষ্টা। তারা মনে করে বাংলাদেশে বাঙালি মুসলমানের কালচারাল আধিপত্য থাকবে না। মুসলমান নাম চিহ্ন যা কিছু আছে তাকেই “বাঙালির না” বলে খারিজ করে দেয়া হয়। তাদের মতে হিজাব বাঙালির না, কোরবানি বাঙালির না, দাড়ি টুপি বাঙালির না। আর এই নিষেধের বৈধতা তারা দাড় করাবে স্যেকুলারিজমের নামে। আপনারে স্যেকুলার আর প্রগতিশীল হইতে হইলে মুসলমানের নাম চিহ্ন ত্যাগ করতে হবে। তাদের কাছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ওস্তাদ আলাউদ্দিন ঐতিহ্য কিন্তু পাশেই দাড়ায়ে থাকা শতবর্ষী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া ঐতিহ্য না।

মুসলমান নাম চিহ্ন সরায়ে দিয়ে হারানো জমিদারি হেজিমনি বা সাংস্কৃতিক আধিপত্য ফিরে পাওয়ার নামই হইতেছে বঙ্গ স্যেকুলারিজম।

বাংলাদেশে যে উত্তর ভারত বা জমিদার হিন্দুর চালু করা কলকাতার সংস্কৃতি আধিপত্য নিয়ে দাত বসাইতে পারতেছে না তার কারণ হইতেছে আমাদের আম – মানুষের মধ্যে সেই সো কল্ড স্যেকুলার হেজিমনি (সাংষ্কৃতিক আধিপত্য) শিকড় গাড়তে পারে নাই। কোন প্রভাব নাই তাই।

আমাদের শহুরে মধ্যবিত্তের একাংশ আর উচ্চবিত্তদের প্রায় সকলের মধ্যেই গন মানুষের এই কালচার সম্পর্কে খবর নাই। অথচ তারা আধুনিক হওয়া বলতে কলকাতার সংস্কৃতির অধীনস্ত হয়ে খেদমত করা বুঝে। এজন্যই ইন্ডিয়া বাংলাদেশে তার রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে।

আমাদের ওয়েষ্টার্ণ ইন্সট্রুমেন্টের প্রেমে পড়া তরুণদের ব্যাণ্ড সংগীত গ্রুপ খুবই দ্রুত ওয়েস্টার্ণ প্রীতি ত্যাগ করে প্রায় সকলে চলে গেলেন গ্রাম বাংলার ময়মনসিংহ কী মালিনগঞ্জের “বিরহের” গানে, কিংবা লালনের গানে। এককথায় গ্রামবাংলার নানান ফর্ম ও গানের ভিতরে। কেউই কলকাতার আধুনিকতার ফলোয়ার হইলেন না। এগুলোই আসলে আমাদের সার্বভৌমত্বের ওই লাস্ট লাইন অব ডিফেন্স। এটা আরো টিক্যা আছে গণ মানুষের মধ্যে, যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ হইতেছে মাদ্রাসা। এইজন্যই আমাদের সো কল্ড স্যেকুলারেরা মাদ্রাসা শিক্ষার উপরে এতো বেশী ক্ষিপ্ত।

কাজেই উদারতা করে যদি আমরা মনে করি দু একটা হোটেলে গরুর মাংস না রাখলে বা খেলে আসলেই খুব বড় কিছু না। কিন্তু এইটাই হইতেছে আসলে সেই জমিদার হিন্দুর কালচারাল আধিপত্য ফিরিয়ে আনার প্রজেক্ট। এই প্রজেক্ট একালে আর কালচারাল জায়গায় থেমে নাই। গত ১৪ বছর ধরে এটা রাজনৈতিক আধিপত্যই শুধু না, এমনকি গণভবনে একটা নিরালা একান্ত রুম খুজতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে যেখানে ভারতের প্রভাব বা একসেস নাই।

তাই আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি যে তারা মাংসের আপত্তি তুলে থেমে যাবে। না, মিতা হকের মত আপত্তি তোলা শুরু করবে মুসলমানদের কোন কিছুই বাঙালির না সব বাদ দিতে হবে – হিজাব বাঙালির না, কোরবানি বাঙালির না, দাড়ি টুপি বাঙালির না। এভাবে কখনও শেষ হবে না এই তালিকা। কোলকাতার মুসলমানদের এই একই দশা করেছে এরা।

গণমানুষের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের লাস্ট লাইন অফ ডিফেন্সকে পরাজিত করতে পারলে আমাদের কোন ভবিষ্যৎ নাই। ওইটারে পরাজিত হইতে দিয়েন না।

এইটা শুধু গরুর গোস্ত না- আমাদের মাথা উচু কইরা একটা রাষ্ট্রের দখলিস্বত্ত্ব কায়েমের বিষয়।

তাই বিষয়টা ছোট কইরা দেইখেন না।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন