হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর নতুন কমিটিকে অভিনন্দন

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৭, জুন, ২০২১, সোমবার
<strong>হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর নতুন কমিটিকে অভিনন্দন</strong>

সৈয়দ শামছুল হুদাঃ আজ ঢাকার মাখজানুল উলূম মাদ্রাসায় মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী সাহেব এর তত্ত্বাবধানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর তৃতীয় দফা কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন কাজ সম্পন্ন হলো। ৩৩সদস্য বিশিষ্ট ঘোষিত এ নতুন কমিটিকে অভিনন্দন।

হেফাজত এর প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আহমদ শফী রহ. এর ইন্তেকালের পরে এর প্রথম কমিটির কার্যক্রম গতি হারায়। ফলে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী দা.বা. এর নেতৃত্বে দারুল উলূম হাটহাজারীতে দ্বিতীয় দফা কমিটি গঠন করতে হয়। নানা বিতর্ক এবং সমালোচনার মুখে খুব অল্পসময়ের ভিতর ঘোষিত দ্বিতীয় কমিটিকে নানাকারণে ও চতুর্মুখি চাপে বিলুপ্ত করতে হয়। আজ তৃতীয় দফা হেফাজত এর কমিটি ঘোষণা করা হলো। এ হেফাজেত বয়স্কদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। দলীয় রাজনীতির সাথে জড়িত অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে। যদিও কিছু সদস্য আজকের ঘোষিত কমিটিতেও রয়ে গেছে। আসলে একটি কথা আছে, লোম বাছলে কম্বল থাকে না। দেশের আলেম সমাজের অধিকাংশই কোন না কোনভাবে কোন না কোন দলীয় রাজনীতির সাথে ছিলেন। সক্রিয় হোক অথবা নিস্ক্রীয়।

আজকের কমিটিতে এমন দুজন আছেন যাদের রাজনৈতিক পরিচয় আছে। উনাদের মধ্যে হেফাজতের প্রথম সহসভাপতি মাওলানা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী সাহেব বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদরিস খেলাফত আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব। এছাড়া বাকীদের রাজনীতি বিষয়ে এখনো জানতে পারিনি।

যাই হোক, মনে রাখতে হবে হেফাজত একটি আবেগি সংগঠনের নাম। এখানে আর দশটা রাজনৈতিক দলের মতো এত পাকা কাগজপত্র করে কাজ সম্পাদন করা হয় না। হেফাজত যদি হিসাব করেই চলতো, তাহলে শাপলার গণজাগরণও হয় না, আর ৫মে’র গণহত্যাও হয় না। হেফাজত একটি ঝড়ের নাম। সিডর গতিতে এসেছিল। ঝড়ের গতিতে হারিয়ে যাচ্ছে। হেফাজতকে যতই নতুন কমিটি গঠন করা হোক, এটাকে আর আগের মতো এই নামে আর দাঁড় করানো যাবে না। হয়তো নতুন নামে, নতুন কোন পরিবেশে আবার নতুন হেফাজত জাগবে।

আমি এটা বিশ্বাস করি যে, হেফাজত একটি চেতনার নাম। কোন কমিটির নাম না। এখানে আজ কে পদে আছে আর কে পদে নেই সেটা বড় কোন বিষয় নয়। আজকে যাদেরকে জেলে পুড়ে হেফাজত থেকে বাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছে, আর যাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে, আর হেফাজতকে একেবারেই নিজেদের মতো করে আগের মতো করে সাজাতে এখনো যারা তৎপর এগুলোতে আর তেমন কিছুই হবে না।

তবে, বাংলাদেশের মাটিতে ইনশাআল্লাহ যে কোন সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে হেফাজতের যে চেতনা সেটা পুনঃ পুনঃ জেগে উঠবেই। এই চেতনা কোন ব্যক্তির সাথেও যেমন সম্পর্কিত নয়, তেমনি বিশেষ কোন দলীয় ব্যানারের সাথেও সম্পৃক্ত নয়। নির্ভরশীল নয়। যারা হেফাজতকে শুধু ব্যক্তি দিয়ে মূল্যায়ণ করতে চান, আমি মনে করি, তারা কওমী চেতনা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখেন না।

আমাদের একটি সমস্যা হলো, আমরা যাদের যে শক্তি নেই, তাদের কাছ থেকে যখন সেটা আশা করি তখন হতাশ হই। তখনই বেশি খারাপ লাগে। আল্লামা আহমদ শফী রহ. বলেন আর বর্তমান আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী দা.বা. এর কথা বলেন, তাদেরকে নিয়ে যদি মনে করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাজনৈতিক ময়দানে টেক্কা দিবেন তাহলে সেটাই হলো বড় ভুল। যারা শাপলার কোন সভায় কাকে কোন মন্ত্রণালয় দিবে ঘোষণা দিয়েছিল তারা আসলে আমাদের মাথায় কাঠাঁল ভেঙ্গে খেয়েছিল। হেফাজত দিয়ে একটি শক্তিশালী সরকার কাঠামোকে ফেলে দেওয়ার যারা অলিক স্বপ্ন দেখিয়েছিল তারাই হেফাজতের আসল শত্রু।

আজকের ঘোষিত হেফাজত নেতৃত্বের পথচলা মসৃণ হোক। সুগম হোক সেই প্রার্থনা। আমি খুব বেশিকিছু আশাও করি না। আবার একেবারে কিছুই হবে না এমনটাও মনে করি না। সর্বোপরি নতুন কমিটি তৌহিদী জনতার হৃদস্পন্দন বুঝতে চেষ্টা করবেন এটুকু আশাকরি। আর কারাবন্দি নেতৃত্ব যাদেরকে আজ হেফাজতের কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের আশু মুক্তির ব্যাপারে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন সেই আবেদন রাখছি।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন