হেফাজতকে নিষ্ক্রিয় করার আবদার সফল হলো না

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৮, জুন, ২০২১, মঙ্গলবার
<strong>হেফাজতকে নিষ্ক্রিয় করার আবদার সফল হলো না</strong>

সৈয়দ শামছুল হুদাঃ হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশকে একেবারে অকার্যকর সংগঠন মনে করেন এদেশের অনেক রাজনৈতিক ইসলামী দল। তারা খুব জোর দিয়ে একথাটা প্রচার করেছিলেন যে, হেফাজতের আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই‌ । এর সামাজিক ও রাজনৈতিক কোনো গুরুত্ব নেই। এটাকে একেবারেই এবং এখনই বিলুপ্ত করে দেওয়া উচিত।

সেটা না করে যখন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও মাওলানা মামুনুল হক সাহেবদের মতো নবীন প্রবীণ এর নেতৃত্বে হেফাজত ঘুরে দাঁড়াতে চাইলো তখন নেমে আসলো চতুর্মুখী বিপর্যয়। তার ওপর মাওলানা মামুনুল হক সাহেবের অসতর্কতামূলক কর্মকান্ডের কারণে সুযোগ পেয়ে গেল সুযোগসন্ধানীরা।

আজকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের পুনরায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখান থেকে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তিদের অনেককেই বাদ দেয়া হয়েছে এবং অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সম্মানের জায়গায় আসীন করা হয়েছে। আমি এটাকে সাধুবাদ জানাই।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সামর্থ্য, সক্ষমতা, ব্যর্থতা, সীমাবদ্ধতা, আমরা উভয় দিকটায় ভালো করে উপলব্ধি করতে পেরেছি। আমাদের বর্তমান সরকার এটা খুব সুন্দরভাবে প্রমাণ করে দিতে সক্ষম হয়েছে যে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর রাজনৈতিক- অরাজনৈতিক ময়দানে কাজ করার কতটুকু যোগ্যতা ও সামর্থ রয়েছে। এই ধাক্কাটা খুব প্রয়োজন ছিল ।

আমাদের অনেক ওয়ায়েজ দাওয়াতি ময়দানের মেজাজের সীমা অতিক্রম করেছিল। ফলে জনসাধারণের মধ্যে অস্বাভাবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। এখন আমরা আমাদের আসল সক্ষমতা উপলব্ধি করতে পারছি। এটা আমাদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।

যারা হেফাজতের একেবারেই বিলুপ্তি চেয়েছিল, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের চাওয়াটা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর বিলুপ্ত করতেই কতক্ষণ আবার ঘুরে দাড়াতেই বা কতক্ষণ। এটা আমরা বুঝি নাই।

হেফাজত টিকে থাকুক যুগ যুগ। আমাদের লাখো কোটি মানুষের অন্তরে জাগরুক থাকুক অনেকদিন। হেফাজতের নামে, হেফাজতের ডাকে আজ অবধি যত মানুষ শহীদ হয়েছে, রক্ত দিয়েছে, সকলের কোরবানীকে আল্লাহ তা’আলা কবুল করুন। আমীন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন