করোনা এবং আওয়ামী লীগ দেশের শত্রু: মির্জা ফখরুল

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৯, জুন, ২০২১, বুধবার
<strong>করোনা এবং আওয়ামী লীগ দেশের শত্রু: মির্জা ফখরুল</strong>

বিজয় বাংলা অনলাইনঃ করোনাভাইরাস এবং আওয়ামী লীগকে দেশের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশে এখন দুই শত্রু। একদিকে আওয়ামী লীগ, আরেকদিকে করোনাভাইরাস। এই দুই শত্রু, এই দুই দানব আমাদের সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে। সেজন্য আমরা বার বার বাধাগ্রস্থ হচ্ছি। কিন্তু এটাকে আমাদের জয় করতে হবে।

বুধবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪০তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বই মেলা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নেতা-কর্মীদের সংগঠিত হওয়ার আহবান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ভাই শটকাট কোনো রাস্তা নেই। একটা যুদ্ধ যখন করতে হবে সেই যুদ্ধে আপনাকে পুরোপুরিভাবে ইকুইপ্ট হতে হবে। যুদ্ধ করতেই হবে। এরা আপনাদের এমনি এমনি ক্ষমতা দিয়ে দেবে না। এরা একেবারে ডিক্টেটর বনে গেছে, কর্তৃত্ববাদী বনে গেছে এবং জানে যে, নির্বাচন করে তারা কোনো জিততে পারবে না। সুতরাং নির্বাচন নির্বাচন খেলা করবে, নির্বাচনের নাটক করবে, তামাশা করবে কিন্তু সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে ওরা নিজেদেরকে জয়ী করবে। যেমন ২০১৮’তে, ২০১৪’তে করেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমি ওদের কথার কী উত্তর দেবো, ওদের কথায় ঘোড়াও হাসে। আগের কথা বলছি- ট্রেন থেকে নেমেই পুরান ঢাকা থেকে ঘোড়ার গাড়িতে হলে যাইতাম। ফুলবাড়ীয়া ট্রেন স্টেশন থেকে এসএম হলে ঘোড়া গাড়ির ভাড়ার ছিলো ৪ আনা। আমরা বলতান দুই আনা- বারগেইন করতাম। গাড়ির চালক ঘোড়ার লাগামটা টান মারতো আর ঘোড়াটা হু হু করে শব্দ করতো। তখন চালক বলতো, আপনার কথায় তো ঘোড়াও হাইসা উঠে। আসলে ব্যাপারটা এমন যে, ওবায়দুল কাদের সাহেবদের কথায় এখন ঘোড়াও হাসে। কি বলে না বলে ওরা জানে না। আর মিথ্যা বলতে বলতে এমন একটা জায়গায় চলে গেছে ওই যে গোয়েবেলসীয় প্রচারের মতো।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, গোয়েবেলস ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জার্মানের নাতসীবাদী ফ্যাসিস্ট হিটলারের প্রচারমন্ত্রী। আপনাদের হাসান মাহমুদদের মতো। অনর্গল মিথ্যা বলেই যাচ্ছেন, অবলীলায় খুব শান্ত মেজাজে বলে কিন্তু। জোরে বলে না, রাগ করে বলে, মনে হয় যেন না ঠিকই বলছে। এটাকেই বলে যে, গোয়েবেলসীয় প্রচার। মিথ্যা প্রচার করতে করতে ওরা জিয়াউর রহমানকে এখন মুক্তিযোদ্ধা দূরের কথা, স্বাধীনতার ঘোষক দূরের কথা, বলে পাকিস্তানের চর ছিলো। এটাতে সবাই হাসে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে ওরা ইতিহাসকে এভাবে বিকৃত করছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানকে যত চেষ্টা করুক মুছে ফেলতে, মুছে ফেলা যাবে না কখনো। তার জন্য আমাদের কোনো সাইন লাগে না, সংবিধান লাগে না। আমাদের মানুষের মাথায়, মাথায়, মগজে, মগজে, হুদয়ে হৃদয়ে, রক্ত কনিকায় চলে গেছে- জিয়াউর রহমান। তিনি এদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছিলেন, গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং বটমলেস বাসসেকটটাকে তিনি উপরে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। এসব বললে ওদের (আওয়ামী লীগ) মেজাজ খারাপ হয়। দলের নেতা-কর্মীদের জিয়াউর রহমানের জীবনকর্মের ওপর লেখা বইগুলো বেশি করে পড়ার পরামর্শ দেন মির্জা ফখরুল।

‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’, ‘প্রতি নায়ক’, ‘কাগমারী সম্মেলন স্মারক গ্রস্থ’, ‘আমার পতাকা ফেলানীর লাশ হয়’, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’, ‘জনগনের মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান মওলানা ভাসানী’, ইত্যাদি গ্রস্থ গুলো পড়ার জন্য বলেন তিনি। কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতাও পড়ার পরামর্শ দেন মহাসচিব।

জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামের সভাপতিত্বে পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির দিপ্তী সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন- দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জিয়া স্মৃতি পরিষদের সঞ্জয় দে রিপন উপস্থিত ছিলেন।

সুত্র : ইনকিলাব

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন