মডেল মসজিদের মডেল কী হবে ?

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১০, জুন, ২০২১, বৃহস্পতিবার
<strong>মডেল মসজিদের মডেল কী হবে ?</strong>

|অধ্যাপক,আব্দুর কাদির সালেহ
যুগ্ম মহাসচিব খেলাফত মজলিস|

দেশে ৫৬০ টি মডেল মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে ।
যিনি বা যারাই করুন একে স্বাগত জানাই।

কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে এই মডেল মসজিদের মডেল কী হবে?
মসজিদের মডেল বলতে এর ডিজাইন, নকশা বা কারুকার্য নয় । এই মডেল হলো মসজিদটি কোন আদর্শে চলবে? কতটুকু ধর্মিয় কর্তৃত্ব ধারন করবে ?
এটি কি সত্যিকার ভাবে ইবাদাতের কেন্দ্রবিন্দু হবে? ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার মার্কায় হবে, নাকি ইসলামকে নিয়ন্ত্রনের শাখা কেন্দ্র হবে ?

এই প্রশ্ন তৈরী হয়েছে এ কারনেই যে মসজিদের ডিজাইন , কারুকার্য ও অবকাঠামোকে যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে , এর
প্রাণ প্রতিষ্ঠা বা মসজিদকে ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তেমন দেয়া হয়নি।
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় শ্রেনীর কামিল বা দাওরা পাশ একজন পেশ ইমাম,দ্বিতীয় শ্রেনীর আলিম পাশ একজন মুআজ্জিন, দ্বিতীয় শ্রেনীর আলিম পাশ দুজন খাদিম চাওয়া হয়েছে । দ্বিতীয় শ্রেনীর যোগ্যতা নিয়ে তারা মসজিদের ধর্মিয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালনে কতটুকু কর্তৃত্বশীল হবেন তা বোধগম্য নয় ।
ইমাম মোআজ্জিনের জন্য হাফেজে কোরআন হওয়া বা আরবীতে উপস্থিত খুৎবা দিতে পারাকে ইমামের জন্য শর্ত করা হয়নি।

তা ছাড়া মোট চারজন মাত্র স্টাফ দিয়ে একটি মসজিদের কাজ কি ভাবে সুচারুভাবে চলবে এটিও প্রশ্নবোধক থেকে গেছে।

এ দিকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে যে বাক্যরীতি ব্যবহার করা হয়েছে এটিও অবমাননাকর ।” দ্বিতীয় শ্রেনীর” শব্দসমষ্ঠিকে কাম্য যোগ্যতার প্রথমেই ব্যবহার করে এই পদগুলোকে গুরুত্বহীন করে তুলে ধরা হয়েছে ।বাক্যটি অশুদ্ধ ।

অন্য ভাবে লিখার সুযোগ ছিল।

প্রথম শ্রেনীর অফিসার কর্তৃক দ্বিতীয় শ্রেনীর ইমাম নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি রচনায় কর্মকর্তা নিজেই দ্বিতীয় শ্রেনীর কাজ করলেন।
সিলেট দক্ষিন সুরমা মডেল মসজিদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে অন্তত:এটিই দেখা গিয়েছে ।জানিনা অন্য সবগুলোর জন্য একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে কি না!

অপরদিকে ১৮ মে বিজ্ঞপ্তি জারী করে ২৫ শে মে’র মধ্যে দরখাস্ত জমা দিতে বলা হয়েছে ।( সংবাদপত্র বা মিডিয়াতে পাবলিকলি এই বিজ্ঞপ্তি কবে প্রকাশিত হয়েছে তা জানা যায়নি, নিশ্চয়ই আরো পরে হবে )
এর মধ্যে শুক্রবার বন্ধ বাদ দিলে একজন আবেদনকারী মাত্র ছ’দিন সময় পান । কিন্তু যেসব কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে তা সংগ্রহ ও তৈরী করতে বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেকেই ব্যার্থ হবেন বলে নিশ্চিত ধারনা করছি।
প্রশ্ন উঠে, এমনতো হয়নি , যাদের নেয়া হবে তাঁদেরকে পূর্বেই আন অফিসিয়্যালী সিলেক্ট করা হয়ে গিয়েছে এবং
বিজ্ঞপ্তি জারি একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র?

মসজিদ উদ্বোধন হোক ।

উচ্চ আউয়াজে আজানের ধণি ছড়িয়ে পড়ুক দূর দিগন্তে ।

কিন্তু এ আওয়াজকে প্রাণবান করতে হলে দ্বিতীয় শ্রেনীর
মডেল ধারনা থেকে কর্তৃপক্ষ সরে আসুন ।

সুচনালগ্নে এ আহবান জানাচ্ছি ।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন