তাবীজ ব্যবহার করা কি শিরক?

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১০, জুন, ২০২১, বৃহস্পতিবার
<strong>তাবীজ ব্যবহার করা কি শিরক?</strong>

মুফতী রেজাউল করীম আবরারঃ প্রথমদিন আপনি আমার রুচি নিয়ে আপত্তি তুলে পোস্ট করেছিলেন। সেখানে সব ধরণের তাবিজকে শিরক প্রমাণ করতে গিয়ে আপনি মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হাদিস “মান আল্লাক্বা তামিমাতান ফাক্বাদ আশরাকা” এর অনুবাদ করেছিলেন, যে তাবিজ লটকালো, সে শিরক করলো।

ইনবক্সে আপনাকে আমি এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আপনি আমাকে বর্তমান যুগের কয়েকটি অভিধানের ছবি দেন। সত্যি কথা হলো, আমি তখন খানিকটা অবাক হয়েছিলাম। বর্তমান যুগের দুই চারটা অভিধান দেখে আপনি চূড়ান্ত সমধান দিয়ে দিলেন? অথচ হাজার বছরের শত ইমামগণ এ ব্যাপারে মতামত প্রদান করে সমাধান দিয়ে গেছেন! তাদের মতামতের চেয়ে বাংলাদেশের জেনারেল শিক্ষিত লেখকদের আরবি- বাংলা অভিধান আপনার কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য?

ভাবছিলাম আপনার এ ব্যাপারটি নিয়ে কোন পোস্ট করব না। কিন্তু তামিমা অর্থ তাবিজ প্রমাণিত করার জন্য আপনি সে অভিধানগুলোর ছবি দিয়ে পাবলিক পোস্ট করেছেন। এজন্য ভাবলাম কিছু কথা বলা দরকার। ভাল করে মনে রাখবেন, তামিমা বলে সব ধরণের তাবিজ উদ্দেশ্য নেওয়া এ শতাব্দির অন্যতম মূর্খতা। এমনকি কুরআনের আয়াত লেখা তাবিজকেও এ হাদিস দিয়ে শিরক বলে জনসমক্ষে ফতোয়া দেওয়া শতাব্দির শ্রেষ্ঠ মূর্খতা এবং ভ্রষ্টতা।

মুহতারাম বাশার সাহেব, আপনি বর্তমান যুগের কয়েকটি অভিধান দিয়ে দলিল দিয়েছেন। আমি আজ আপনার জন্য জগদ্বিখ্যাত ২০ জন ইমামের বক্তব্য পেশ করলাম। এবার আপনি সিদ্ধান্ত নিন কাদের বক্তব্য আপনি গ্রহণ করবেন। তারা সকলেই বলে গেছেন যে, তামিমা অর্থ তাবিজ নয়। তামিমা হলো, ছোট পাথর, হাড্ডি ইত্যাদি ঝুলানোর নাম। সেটাকে তো আমরাও জায়েজ বলি না।

১. আরবী ভাষার প্রাচীন কিতাব কিতাবুল জীম-এর লেখক আবু আমর আশশায়বানী (মৃত্যু : ২০৬ হিজরী) তার এ অনবদ্য গ্রন্থে লেখেন-
قال الأكوعي : التمائم الخرز الذي يعلق على الإنسان أو الدابة مخافة العين.
ইমাম আকুয়ী রাহি. বলেন: তামিমা হলো সে ছোট ছোট পাথরের নাম, যেগুলো মানুষ কিংবা চতুষ্পদ জন্তুকে লটকানো হয় বদ নজর থেকে বাঁচার জন্য। (কিতাবুল জীম ১/৩২}

২. একই সময়ের আরেক আরবী ভাষাবিদ ইমাম আবু যায়দ (মৃত্যু ২১৫ হিজরী) বলেন-
التميمة خرزة رقطاء تنظم في السير ثم يعقد في العنق
তামিমা বলা হয় ছোট কালো পাথরকে, যেগুলোকে সুতোয় গেঁথে গাড়ে লটকানো হয়। (গরীবুল হাদীস ১/১৮৩)

৩. প্রখ্যাত ফকীহ ও আরবী ভাষাবিদ আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লাম রাহ. যে হাদীসে ঝাড়ফুঁক ও তামীমাকে শিরক বলা হয়েছে তা সম্পর্কে বলেন-
إنما أراد بالرقى والتمائم عندي ما كان بغير لسان العربية مما لا يدرى ما هو.
অর্থাৎ ঝাড় ফুঁক এবং তামিমা দ্বারা আমার মতে উদ্দেশ্য হলো যেটা আরবি ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষায় হয় এবং অর্থ অস্পষ্ট হয়।(গরীবুল হাদীস ২/১৯০)

আবু উবায়দ রাহ. এ কিতাবটি রচনা করেন হাদীসের দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে। এতে কিছু ভুল-বিচ্যুতিও হয়ে যায়; এগুলো নিয়ে আবার কিতাব লেখেন তৎকালীন আরেক আরবী ভাষাবিদ ইবনে কুতাইবা রাহ.। তিনি স্বতন্ত্র একটি কিতাব রচনা করে তার নাম দেন إصلاح الغلط । সে রচনায় আবু উবায়দের উক্ত বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন-
و هذا يدل أن التمائم عند أبي عبيد المعوذات التي يكتب فيها وتعلق. قال أبو محمد : و ليست التمائم إلا الخرز وكان أهل الجاهلية يسترقون بها ويظنون بضروب منها أنها تدفع عنهم الآفات.
অর্থাৎ আবু উবায়দার বক্তব্য থেকে বুঝা যায় যে তিনি সব ধরণের তাবিজকে তামিমা মনে করেন। কিন্তু তার বক্তব্য সঠিক নয়। তামিমা হলো সে ছোট পাথরের নাম, জাহেলি যুগের লোকেরা যা দিয়ে ঝাড় ফুঁক করত এবং মনে করত, এটা তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবে। (ইসলাহুল গালাত: ৫৪)

৪. ইমাম মুনজিরি বলেন:
لتميمة: يقال:إنها خرزة كانوا يعلقونها، يرون أنها تدفع عنهم الآفات،
তামিমা বলা হয় ছোট ছোট পাথরকে, জাহেলি যুগে তারা লটকাতো এবং মনে করত এগুলো তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করবে। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৪/২৫০)

৫. ইমাম খাত্তাবি রাহি.
إنها خرزة كانوا يتعلقونها يرون أنها تدفع عنهم الآفات. واعتقاد هذا الرأي جهل وضلال إذ لا مانع ولا دافع غير الله سبحانه ولا يدخل في هذا التعوذ بالقرآن والتبرك والاستشفاء به لأنه كلام الله سبحانه والاستعاذة
অর্থাৎ তামিমা হলো ছোট ছোট পাথর, যেগুলো তারা লটকিয়ে রাখত এবং মনে করতে, এগুলো তাদের বিপদ দূর কর।ে এ আকিদা মূর্খতা এবং ভ্রষ্টতাপূর্ণ। কারণ, বিপদ থেকে বাঁচানোর এবং বিপদ দূর করার একমাত্র মালিক হলেন আল্লাহ। (মাআলিমুস সুনান: ৪/২২০)

৬. ইমাম ইবনে আবদিল বার মালেকি রাহি. বলেন:
التَّمِيمَةُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ الْقِلَادَةُ هَذَا أَصْلُهَا فِي اللُّغَةِ وَمَعْنَاهَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مَا عُلِّقَ فِي الْأَعْنَاقِ مِنَ الْقَلَائِدِ خَشْيَةَ الْعَيْنِ أَوْ غَيْرِهَا مِنْ أَنْوَاعِ الْبَلَاءِ
অর্থাৎ আরবি ভাষায় তামিমা বলা হয় মালা কে। আর আলেমদের নিকট তামিমার অর্থ হলো, বদ নজর এবং অন্যান্য বিপদ থেকে বাঁচার জন্য গলায় লটকানো মালার নাম। (আত তামহীদ: ১৭/১৬২)

৭. হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রাহি.
وَالتَّمَائِمُ جَمْعُ تَمِيمَةٍ وَهِيَ خَرَزٌ أَوْ قِلَادَةٌ تُعَلَّقُ فِي الرَّأْسِ كَانُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ يَعْتَقِدُونَ أَنَّ ذَلِكَ يَدْفَعُ الْآفَاتِ
অর্থাৎ তামিমা বলা হয় ছোট পাথর এবং মালাকে, যা মাথায় লটকানো হয়। জাহেলি যুগের লোকজন মনে করত যে এগুলো বিপদ দূর করবে। (ফাতহুল বারি: ১০/১৯৬)

৮. হাফেজ জালাল উদ্দিন সুয়ুতি রাহি.
التَّمَائِمِ جَمْعُ تَمِيمَةٍ وَهِيَ خَرَزَاتٌ كَانَتِ الْعَرَبُ تُعَلِّقُهَا عَلَى أَوْلَادِهِمْ يَتَّقُونَ بِهَا الْعَيْنَ فِي زَعْمِهِمْ فَأَبْطَلَهُ الْإِسْلَامُ
অর্থাৎ তামিমা বলা ছোট পাথরকে, বদ নজর থেকে বাঁচার জন্য জাহেলি যুগের লোকজন যা লটকিয়ে রাখত। ইসলাম সেটাকে বাতিল করে দিয়েছে। (হাশিয়াতুস সুয়ুতি আলা সুনানিন নাসায়ি: ৮/১৩৯)

৯. ইমাম জুরকানি রাহি. বলেন:
وَالتَّمِيمَةُ: مَا عُلِّقَ مِنَ الْقَلَائِدِ خَشْيَةَ الْعَيْنِ وَنَحْوِ ذَلِكَ
অর্থাৎ তামিমা বলা হয়, বদ ইত্যাদি থেকে বাঁচার জন্য যে মালা লটকানো হয়, সেটার নাম। (শারহুয যুরকানি: ৫/৩১৯)

১০. আশরাফ সিদ্দিক আযিমাবাদি রাহি.
التَّمَائِمُ جَمْعُ تَمِيمَةٍ وَهِيَ خَرَزَاتٌ كَانَتِ الْعَرَبُ تُعَلِّقُهَا عَلَى أَوْلَادِهِمْ يَتَّقُونَ بِهَا الْعَيْنَ فِي زَعْمِهِمْ فَأَبْطَلَهَا الْإِسْلَامُ
অর্থাৎ তামিমা বলা ছোট পাথরকে, বদ নজর থেকে বাঁচার জন্য জাহেলি যুগের লোকজন যা লটকিয়ে রাখত। ইসলাম সেটাকে বাতিল করে দিয়েছে। (আউনুল মাবুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কায়্যিম: ১০/২৬২)

১১. ইমাম ইবনে কুতাইবা রাহি.
وَالتَّمَائِمُ خَرَزُ رُقُطٍ، كَانَتِ الْجَاهِلِيَّةُ تَجْعَلُهَا فِي الْعُنُقِ وَالْعَضُدِ، تَسْتَرِقِي بِهَا، وَتَظُنُّ أَنَّهَا تَدْفَعُ عَنِ الْمَرْءِ الْعَاهَاتِ، وَتَمُدُّ فِي الْعُمُرِ،
অর্থাৎ তামিমা বলা হয় ছোট কালো পাথরকে। জাহেলি যুগের লোকেরা যেটা গলায় এবং বাহুতে লটকিয়ে রাখত এবং ঝাড় ফঁক করত। তারা মনে করত এটা বিপদ দূর করবে এবং বয়স বৃদ্ধি করবে। (তাওয়িলু মুখতালিফিল হাদীস: ১/৪৬৬)

১২. ইমাম বায়হাকি রাহি. বলেন:
قال البيهقي: يقال: إن التميمة خرزة كانوا يتعلقونها [يرون أنها] تدفع عنهم الآفات
অর্থাৎ তামিমা বলা হয় ছোট পাথরকে, বিপদ দূর করবে এ ধারণায় লোকেরা পাথর লটকাতো। (শারহু সুনানি আবি দাউদ: ইবনে রাসলান, ১৫/৫৪৩)

১৩. ইমাম কুরতুবি রাহি. বলেন:
التَّمِيمَةُ فِي كَلَامِ الْعَرَبِ الْقِلَادَةُ، وَمَعْنَاهُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مَا عُلِّقَ فِي الْأَعْنَاقِ مِنَ القلائد خشية العين أو غيرها من أنواع البلاء
অর্থাৎ আরবি ভাষায় তামিমা বলা হয় মালা কে। আর আলেমদের নিকট তামিমার অর্থ হলো, বদ নজর এবং অন্যান্য বিপদ থেকে বাঁচার জন্য গলায় লটকানো মালার নাম। (তাফসিরে কুরতুবি: ১০/৩২০)

১৪. আবু মানসুর আজহারি: (৩৭০)
وَالْأَصْل فِي ذَلِك أَن الصبيَّ مَا دَامَ طِفلاً تعلِّق عَلَيْهِ أمُّه التمائمَ، وَهِي الخَرزُ تعوِّذه بهَا من الْعين، فَإِذا كبِر قُطعتْ عَنهُ.
অর্থাৎ তামিমা হলো বদ নজর থেকে বাঁচার জন্য ছোট বাচ্চাদের গলায় লটকানো পাথরের নাম। বাচ্চা বড় হয়ে যাওয়ার পর যা কেটে ফেলা হতো। (তাহযিবুল লুগাহ: ১/৫০)

অন্য জায়গায় তিনি বলেন:
قلت: التَّمائم واحدتها تميمةٌ وَهِي خَرَزَات كَانَت الْأَعْرَاب يُعلقونها على أَوْلَادهم يَتَّقون بهَا النَّفْس والعَيْن بزعمهم، وَهُوَ بَاطِل،
অর্থাৎ তামিমা বলা হয় ছোট ছোট পাথরকে, আরবের লোকজন সন্তানদের জীবন এবং বদন নজর থেকে বাঁচানোর জন্য তাদের ধারণা অনুযায়ী লটকিয়ে রাখত। এটি বাতিল বিষয়। (তাহযিবুল লুগাহ: ১৪/১৮৪)

১৫. ইমাম আবুল হাসান মুরসি রাহি.
التّميمة: خرَزة رقْطاء تُنظَم فِي السّير ثمَّ يُعقَد فِي الْعُنُق، وَقيل: هِيَ قلادة يُجعَل فِيهَا سُيورٌ وعُوَذٌ وَالْجمع تمائم،
অর্থাৎ তামিমা বলা হয় ছোট ছোট কালো পাথরকে, যেগুলো গলায় লটকানো হয়। কেউ কেউ মালা লটকানোকেও তামিমা বলেছেন। (আল মুখাসসাস: ৪/২১. খলি ইবরাহিম জাফফাল তাহকিক, দারু ইহয়াতিত তুরাছিল আরাবি থেকে প্রকাশিত)

১৬. ইমাম ইবনুল জাওযি রাহি.
فِي الحَدِيث أَن التمائم من الشّرك وَهِي خَرَزَات كَانَت الْعَرَب تعلقهَا عَلَى الصّبيان يَتَّقُونَ بهَا الْعين بزعمهم
অর্থাৎ তামিমা বলা হয় ছোট ছোট পাথরকে, জাহেলি যুগের লোকেরা তাদের ধারণা অনুযায়ী বদ নজর থেকে বাঁচার জন্য বাচ্চার গলায় লটকিয়ে রাখত। (গারিবুল হাদিস: ১/১১২)

১৭. ইমাম আবুল ফাতহ খাওয়ারিজমি রাহি.
وَبَعْضُهُمْ يَتَوَهَّمُ أَنَّ الْمُعَاذَاتِ هِيَ التَّمَائِمُ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ إنَّمَا التَّمِيمَةُ هِيَ الْخَرَزَةُ وَلَا بَأْسَ بِالْمُعَاذَاتِ إذَا كُتِبَ فِيهَا الْقُرْآنُ أَوْ أَسْمَاءُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ.
অর্থাৎ কেউ কেউ তাবিজকে তামিমা মনে করেন। বাস্তবতা এমন নয়। তামিমা একমাত্র ছোট পাথরের নাম। কুরআন কিংবা আল্লাহর নাম দিয়ে তাবিজ লটকাতে সমস্যা নেই। (আল মাগরিব: ১/৬২)

১৮. ইবনে মানযুর আফ্রিকি
التَّمَائِمَ، وَهِيَ الْخَرَزُ، تُعَوِّذه مِنَ الْعَيْنِ،
অর্থাৎ তামিমা বলা ছোট পাথরকে, এর মাধ্যমে বদ নজর থেবে আশ্রয় চাওয়া হয়। (লিসানুল আরব: ১০/২৫৯)

১৯. মুরতাজা হাসান আজ জাবিদি রাহি.
التَّمائمَ خَرَزٌ يُثْقَبُ ويُجْعَل فِيهَا سُيُورٌ وخُيوط تُعَلّق بهَا. قَالَ وَلم أَرَ بَيْنَ الْأَعْرَاب خِلافًا أنّ التَّمِيمَةَ هِيَ الخَرَزَةُ نَفْسُها.
অর্থাৎ তামিমা যে ছোট পাথরের নাম, এ ব্যাপারে আমি আরবদের মাঝে কোন মতবিরোধ দেখি নি। (তাজুল আরুস: ৩১/৩৩৫)

২০. শামছুদ্দীন যাহাবি
التمائم جمع تَمِيمَة وَهِي خَرَزَات وحروز يعلقها الْجُهَّال على أنفسهم وَأَوْلَادهمْ ودوابهم يَزْعمُونَ أَنَّهَا ترد الْعين وَهَذَا من فعل الْجَاهِلِيَّة وَمن اعْتقد ذَلِك فقد أشرك
অর্থাৎ তামিমা বলা হয় ছোট পাথর দানাকে, মূর্খরা যেগুলো নিজেরা, নিজেদের সন্তানদের এবং পশুর গলায় লটকাতো এবং মনে করত, এটা তাদের বদনজর থেকে রক্ষা করবে। এটি জাহেলি যুগের কাজ। যে এমন আকিদা লালন করবে, সে মুশরিক হয়ে যাবে। (আল কাবায়ির: ১৬)

মুহতারাম আবুল কালাম আজাদ বাশার সাহেব, এখানে আমি হাজার বছরের ইলমের ধারক ও বাহক ২০জন প্রথিতযশা ইমামের বক্তব্য তুলে ধরলাম। তারা তামিমার অর্থ করেছেন যে, জাহেলি যুগের লোকজন ছোট ছোট পাথরকে বাচ্চাদের গলায় ঝুলিয়ে রাখত এ ধারনা করে যে, পাথর তাদের বিপদ দূর করবে। সেটাকে হাদিসে শিরক বলা হয়েছে।

সে পাথর লটকানোর হাদিস দ্বারা যারা কুরআন, হাদিস কিংবা দোয়া লিখে তাবিজ লটকানোকে যারা শিরক ফতোয়া দেয়, তারা হয়ত জ্ঞানপাপী, অথবা মূর্খ। আপনাকে আমি কোনোটাই মনে করি না। হয়ত ব্যস্ততার কারণে তাহকিক করার সুযোগ পান নি। এজন্য আরবি বাংলা অভিধান সহ কয়েকটি বর্তমান যুগের কয়েটি অভিধান দেখেই হুটহাট ফতোয়া দিয়ে দিয়েছেন।

এ ধরণের ফতোয়া ইলমি মহলে আপনার ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অন্তত এ ধরণের বাচ্চাসুলভ তাহকিক আপনার ডক্টর লকবের সাথে বেমানান। আল্লাহ আপনাকে সুমতি দান করুন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন