ব্যথিত জীবনের গল্প:- ১

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৫, জুন, ২০২১, মঙ্গলবার
<strong>ব্যথিত জীবনের গল্প:- ১</strong>

ফেরদাউস আল মামুনঃ ১১ বছরের ছোট্ট শিশু শিমুল। ছোটকাল থেকেই বাবার ব্যবসার সুবাদে শহরে বাস। সেইসাথে স্থানীয় একটি নামকরা স্কুলের মেধাবী ছাত্র ও ছিল সে। তার বাবার স্থায়ী কোন প্রোপার্টি না থাকলেও তার ছিল আদর্শ ও সৎ চিন্তাধারা। অল্প দিনেই কর্মচারী থেকে মালিকে উন্নতি। ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার সুবিধার্থে, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় গ্রাম ছেড়ে চলে আসেন শহরে। জীবন যুদ্ধে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

ছোট্ট একটি দোকানের ইনকাম দিয়েই তাদের সংসার স্বাচ্ছন্দে চলছে। কিন্তু সেই মধুমাখা সময়টি বেশিক্ষণ থাকেনি।
শিমুলের ৮ বছর এবং তার ছোট বোন সীমার ৫ বছর বয়সে তাদের বাবা হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। আর তখনি নেমে আসে তাদের পরিবারে অন্ধকার ছায়া। ব্যবসা ও পরিবারের হাল ধরার মত তাদের কেউ ছিল না। আশপাশের লোকজনও তাদের অনুকূলে ছিল না। তাদের মা নিজের ইজ্জৎ সম্মান রক্ষার্থে স্বল্পমুল্যে দোকান বিক্রি করে তাদের নানাবাড়িতে চলে যান।

দু’টি সন্তানকে মানুষ করতে জীবন যুদ্ধ শুরু হয় তাদের মা রুকাইয়া খাতুনের। তার বাবার বাড়িও অসচ্ছল থাকায় অর্থনৈতিক সুবিধা পাননি।
বাধ্য হয়ে তিনি আশপাশের বাড়িতে ঝি’য়ের কাজ নেন। সকালে বের হলে সন্ধায় ফেরেন। বিকালে যে খাবার নিয়ে ঘরে ফিরেন তা খেয়েই সীমা শিমুল ঘুমিয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় শিমুলের লেখাপড়া। ভেস্তে যায় তার ভবিষ্যতের স্বপ্ন।

সামনে ঈদ। নতুন সাজে সজ্জিত হচ্ছে চারপাশ। রুকাইয়া খাতুন যে বাড়িতে কাজ করেন সে বাড়িতে ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে তার অনেক কাজ বেড়ে গেছে। ভোরে কাজে গেলেও বাড়িতে প্রায়ই ফেরছেন সন্ধার পর। এদিকে অবুঝ শিশু দু’টিও মায়ের জন্য ব্যাকুল। সীমা তো কেঁদে কেঁদে ঘুমিয়ে যায় আবার যখন জেগে উঠে তখন মা…..মা করে চিৎকার করতে থাকে। শিমুল শান্তনা দিয়ে ও অনেক সময় ব্যর্থ হয়।

প্রতি দিনের ন্যায় গত সোমবারেও তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। বিকালে খাবার নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে ভাবছিলেন যে, ঈদের দিনে বাচ্চাদেরকে কি দিয়ে শান্তনা দিবেন।
অন্যান্য বাচ্চাদের মত তাদের ও তো নতুন জামা-কাপড় দিতে হবে কিন্তু কি করে তার পক্ষে সম্ভব? চিন্তার রাজ্যে তিনি আনমনা হাঠতে থাকেন। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস তখনি পেছন থেকে একটি মালবাহী ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। দেহ থেকে প্রাণ যায় তখনো গগনবিদারী শেষ চিৎকার ছিল…. শিমুল-সী……মা..।

ছিন্নভিন্ন মরদেহ আনা হয় বাড়িতে। দাফন হয় বাড়ির পাশে। বাড়ির দক্ষিন দিকে গোরস্তানে বাশ দিয়ে বেড়া দেওয়া কবরের দিকে ইংগিত করে সীমা বারবার প্রশ্ন করে কিন্তু অশ্রুসিক্ত চাহনি ছাড়া কারো মুখে কোন উত্তর নেই।

মা নেই। আর কখনো ফিরে আসবেন না। শিমুল বুঝলেও সীমাকে শান্তনা দেওয়া খুব কঠিন। অবুঝ সীমার হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে ঈদের দিন সকালে শিমুল মায়ের কবরের পাশে নিয়ে গেল তাকে। অবুঝ দু’টি মন মায়ের কবরের নতুন মাঠি স্পর্শ করে শতশত অভিমানী বাক্যালাপে কেঁদেই চলছে……..মা… মা….. মা….বলে।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 22
    Shares