অটোপাস:ধ্বংসের মুখে শিক্ষা ব্যবস্থা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৯, জুন, ২০২১, শনিবার
অটোপাস:ধ্বংসের মুখে শিক্ষা ব্যবস্থা

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী: অটোপাস আর প্রমোশন আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যাচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চললেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার দ্বি-মুখী আচরণ করছে। দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। সুতরাং শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের আগেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিতে হবে। দেশে অফিস-আদালত, ‘গার্মেন্টস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন, শপিংমল সবই খোলা আছে কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ কেনো? প্রকৃত অর্থে সরকারের মধ্যে থাকা বৈষম্যের নীতিই এর মূল কারণ। সরকারে যারা আছেন, তাদের অধিকাংশের সন্তান বিদেশে থাকে। যাদের পরিবার-পরিজনের কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু সমস্যা মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তাদের। এদের প্রতি তাদের কোনো মাথাব্যথা নাই।
সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেটের ব্যাপক বিস্তৃতি ও ঘরে ঘরে অনলাইন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারের সহজলভ্যতা এসেছে। এখন যেন সমস্ত পৃথিবী ঝুঁকে পড়েছে ইন্টারনেটে। এর প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি কোমলমতি শিশুরাও। এই ইন্টারনেট বধ করেছে তাদের শৈশবকেও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। যেটি আমাদের দেশের শিশুদের মধ্যেও সাম্প্রতিক সময় অতিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমন কি কোচিংও বন্ধ থাকায় শিশুকিশোররা ইউটিউব, ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারের মতো অ্যাপসগুলো তাদের ইচ্ছেমত ব্যবহার করছে। আর এগুলো ব্যবহার করতে গিয়ে তারা বাসার কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন ব্রাউজ করছে। থাকছেনা কোন ভয়ভীতি ও শ্রদ্ধা বা পরিমিতিবোধ। বাড়ীর আঙিনা,ঘরের ছাদ এমন কি বনে জঙ্গলে বসে মোবাইলে গ্যাম,জুয়ায় লিপ্ত কিশোর-যুব সমাজ।
পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশেই দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে একটানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা ছাড়া বন্দী বন্দি জীবনযাপন করছে। এতে অনেক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ছে, বাল্য বিবাহের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনেকে মোবাইলে আসক্ত হচ্ছে, মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। করোনাকালে যৌন সহিংসতা, নিপীড়ন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যেকোনো সংকটজনক পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় নারী ও শিশুরা। গেল বছর করোনার শুরুরপর থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশেই নারী নিপীড়ন ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি তারই প্রমাণ। উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি কিছু সংস্থা কাজ করলেও সরকারের তরফে তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না। তাঁরা বলছেন, সরকারের এমন ‘নির্বিকার অবস্থান’ সহিংসতা আরো বাড়িয়ে দেবে এবং অপরাধীরাও পার পেয়ে যাবে। বিচারহীনতা, রাজনৈতিক প্রশয়, ধর্ষণের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, ভিকটিম বে¬ইমিং (ভুক্তভোগীকেই উল্টো দোষারোপ করা) যৌন সহিংসতা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে তাঁদের অভিমত। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের জন্য গঠিত ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত যৌন হয়রানির শিকার আট হাজার ৪১৫ নারী ও শিশু সেবা নিয়েছে। গত বছর রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ১৯ নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে।করোনাকালে নারীরা বীভৎসভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই সংকটকালে যৌন নিপীড়ন ও সহিংসতা বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আসকের জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক নীনা গোস্বামী বলেন, ‘লকডাউনে নারী ও পুরুষ একই ছাদের নিচে থাকতে হয়েছে। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা হ্রাস পেয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্দশায় যৌতুকের দাবিতে কিংবা কলহের জেরে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।

বিজয়বাংলা/আশরাফ/১৯ জুন ২১’

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন