শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিশ পরবর্তী কওমি শিক্ষা বোর্ডের জরুরি বৈঠক

বিজয় বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৫, জুন, ২০২১, শুক্রবার
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নোটিশ পরবর্তী কওমি শিক্ষা বোর্ডের জরুরি বৈঠক
দেশের কওমি মাদরাসাগুলোর মান্নোয়ন ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে গতকাল ২৩ জুন (বুধবার) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ (মাদরাসা শাখা-৩) এর সহকারী সচিব সৈয়দ আসগর আলী স্বাক্ষরিত এক নোটিশে একটি সভার আহ্ববান করা হয়। এতে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সভাপতিত্ব করার কথা ছিলো।

নোটিশ বিষয়ে হাইয়াতুল উলইয়ার জরুরি বৈঠক

‘সরকারের প্রেরিত নোটিশ পর্যালোচনার জন্য’ আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বাদ জোহর বেফাকের নিজস্ব কার্যালয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির ঢাকাস্থ সদস্যবৃন্দ এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান।

এ সময় আলোচনা হয় গতকাল ২৩ জুন (বুধবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে আল-হাইআতুল উলয়ার ই-মেইলে ‘অফিস আদেশ’ এবং ‘সভার নোটিশ’ নামে দুটি পত্র প্রেরণের বিষয়ে।

বৈঠক শেষে সরকার আহুত আলোচনা সভায় অংশ না নেওয়ার বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করে হাইয়াতুল উলইয়ার ভেরিফাইড ফেসবুকে জানানো হয়। আল-হাইআতুল উলয়া বাংলাদেশের অফিস সম্পাদক মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এ পোস্টে বলা হয়, মাননীয় উপমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আহূত সভায় যোগদানের অপারগতার কারণগুলো ছিল নিম্নরূপ :

১. সভার আলোচ্য সূচীতে কওমি মাদরাসা খোলার বিষয়টি ছিল না, অথচ আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ হতে এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে বারবার আলোচনা হচ্ছিল। তাই সময়ের দাবি ছিল মাদরাসা খোলার বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে থাকা।
২. ‘সভার নোটিশ’ এর আলোচ্য বিষয় এবং ‘অফিস আদেশ’টি আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আইন, ২০১৮ এর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

৩. সভার আলোচ্যবিষয় সম্পর্কে আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা হওয়া জরুরি। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব ছিল না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘অফিস আদেশ’ এবং ‘সভার নোটিশ’ ই-মেইলে পাঠানো হয় গতকাল বিকাল ৪.৪৮ মিনিটে আর সভা আহ্বান করা হয় আজ ২৪ জুন বেলা ১১:৩০ মিনিটে।

পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর, মাওলানা মুফতি আরশাদ রাহমানী, মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা ইয়াহইয়া মাহমূদ, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা মুফতি নূরুল আমীন, মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান সায়ীদ, মাওলানা জাফর আহমদ, মাওলানা নেয়ামাতুল্লাহ ফরিদী, মাওলানা মনীরুজ্জামান, বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা মুহাম্মাদ যুবায়ের।

হাইয়াতুল উলইয়ার স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বৈঠক থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস আদেশ’ বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। আগামী সোমবার (২৮ জুন) হাইয়াতুল উলইয়ার স্থায়ী কমিটির সব সদস্যদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি হাইয়াতুল উলইয়ার অফিস সম্পাদক মু. অছিউর রহমান আওয়ার ইসলামকে নিশ্চিত করেছেন।

কওমি মাদরাসা শিক্ষার মান্নোয়নে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন

এর আগে গতকাল ২৩ জুন (বুধবার) দেশের কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসাগুলোকে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় আনতে একটি নীতিমালাও প্রণয়নের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গত ২১ জুন (সোমবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের এক অফিস আদেশে এ ১৫ সদস্যের কমিটি গঠনের বিষযটি জানানো হয়। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানকে আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক মো. আব্দুস সেলিমকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।

গঠিত এ কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে- কওমি মাদ্রাসাসহ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা কার্যকরকরণ ও সরকারের নিবন্ধনের আওতায় আনয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত একটি খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসা আলাদাভাবে পরিচালিত ছয় বোর্ডকে সমন্বয় করে একটি কওমি শিক্ষাবোর্ড গঠনের প্রস্তাব প্রস্তুত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, জননিরাপত্তাবিষয়ক বিভাগের একজন প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কওমি মাদ্রাসার ছয় বোর্ডের চেয়ারম্যানকেও পদাধিকার বলে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তারা হলেন- বেফাক সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান, গওহরডাঙ্গা বোর্ডের মুফতি রুহুল আমীন, আঞ্জুমানে ইত্তিহাদ বোর্ডের মাওলানা আবদুল হালিম বোখারি, সিলেটের আযাদ দ্বীনি বোর্ডের মাওলানা জিয়াউদ্দিন, তানযীমুল মাদারিসের মুফতি আরশাদ রহমানী ও জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।

এর আগে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নের বিধান রেখে ‘শিক্ষা আইন ২০২১’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে ওই বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

ওই খসড়ায় বলা হয়েছে- সরকার কওমি মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। কওমি মাদ্রাসাগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখেই শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়ন করার বিধান করা হবে।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 3
    Shares