একজন এমপি এবং গোয়াইনঘাটি হুজুর দা.বা.

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৬, জুন, ২০২১, শনিবার
<strong>একজন এমপি এবং গোয়াইনঘাটি হুজুর দা.বা.</strong>

ইউসুফ হামিদী : জামেয়া রেঙ্গার গোয়াইনঘাটি হুজুর আসলেই এক মস্তবড় দৌলত। কথাটা জামেয়া রেঙ্গার বাহিরে যারা তারাতো বুঝবেইনা রেঙ্গার ছাত্র যারা হরদম হুজুরদের সাথে যোগযোগ রাখেনা তারাও বুঝবে না।
দূর থেকে জামেয়া রেঙ্গাকে ভালবাসে এমন অনেক লোকের কাছে আমি শুনেছি, তারা বলেছে, জামেয়া রেঙ্গার মতো একটা মাদরাসা বানিয়ে ফেলা সম্ভব কিন্তু বেছে বেছে এমন উস্তাদ জড়ো করা কঠিন।
আমি একদিন আমার এক বন্ধুকে বলতে শুনেছি, সে বলেছে; জানো হামিদী? জামেয়া রেঙ্গায় এমন কয়েকজন উস্তাদকে রাখা হয়েছে ছাত্র তো বটেই শিক্ষকরাও যেনো তাঁর কাছ থেকে ইন্তেফাদা হাছিল করতে পারে।
তাঁদের মাঝে গোয়াইনঘাটি হুজুরও একজন। বাস্তবেও আমি দেখেছি, কোন মাসআলায় কোন উস্তাদের খটকা লাগলে গোয়াইনঘাটি হুজুররে কাছে যাওয়া আসা করতে। এদিকে তিনি জামেয়া রেঙ্গার মুহাদ্দিস কিন্তু গোয়াইনঘাটি হুজুরের রুমে এসে ইট-পাথরের ফ্লোরে বসে থাকেন আর হুজুর মাসআলার সমাধান করে দেন। চিন্তা করো পাঠক, এ দৃশ্যটি কতো নুরানিয়্যাত ও আহাম্মিয়াতের ভূমিকা রাখে। তোমাকে ডেকে নিয়ে সে দৃশ্যটি তো এখন দেখাতে পারবো না; স্কিনের এ লেখা পড়ে যতো পারো অনুমান করে নিতে পারো।

২০১৫ সালে শরহে জামির ঘন্টায় তিনি জুমআর নামায দুই রাকাত কেনো এ সংক্রান্ত একটি মাসআলায় তিনি কথাটি বলেছিলেন। হুজুরের কথা শুনার আগে মনে করতাম যেহেতু শুক্রবার সাপ্তাহিক ঈদ, তাই ঈদের নামাজের মতো জুমআর নামাজও দুই রাকাত। হুজুরের কথাটি শুনে আমার ধারনা পাল্টে গেলো। তারপর কেটে গেলো একে একে ছয় বছর। হুজুরের বলা কথাটি আমি গত ছয় বছরে কারো মুখে শুনিনি।

আজ আমাদের গ্রামের ঐতিহ্যবাহি মসজিদটি পুনঃনির্মান ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আমাদের আসনের এমপি মহোদয়ও স্বেচ্ছায় যোগদান করেন। যেহেতু উনি আমাদের মেহমান তাই উনাকেও অনুষ্ঠানের বিশাল অংশ জোরেই বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়। উনি উনার বক্তব্যে একটি প্রসঙ্গ টেনে জুমআর নামাজ কেনো দুই রাকাত সে কথাটি বললেন। আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম, এমন একটি কথা তিনি এমপি হয়েও কীভাবে বললেন!
মনে মনে ভাবলাম, যদি গোয়াইনঘাটি হুজুর আমাকে কথাটি আগে না বলতেন তাহলে আজ এমপির কথাটিও বিশ্বাস করতাম না, বাকি আট-দশটি কথার মতোই অবিশ্বাসের আস্তাকুড়ে ফেলে দিতাম।

শুধু এখানেই শেষ না, যুহর এবং আসরের নামাযে কেরাত কেনো আস্তে পরা হয় এটি নিয়েও হুজুরের বিস্তর বক্তব্য আছে। বাকি আট-দশ জনের মতো আমিও মনে করতাম কাফেরদের ভয়েই রাসুলের যুগে কেরাত আস্তে পড়া হতো। কিন্তু হুজুরের বক্তব্য শুনে বুঝলাম ; ও গুলো তো ফুকাস কথা-বার্তা।

গোয়াইনঘাটি হুজুর শাব্দিক অর্থেই রেঙ্গা ওয়ালাদের জন্য অমূল্য সম্পদ। হুজুরও রেঙ্গা মাদরাসাকে নিজের ঠিকানাই মনে করেন। কতো মাদরাসা থেকে কতো অফার আসলো, কেউতো বলেছে মাত্র একটি ঘন্টার জন্য, মাদরাসা থেকে গাড়ি দিয়ে নিয়ে যাবে আবার এক ঘন্টা পর এনে দিয়ে যাবে তারপরেও হুজুর রাজি হননি। হুজুর এর কারনও বলেছেন, হুজুর বলেছেন, রেঙ্গা মাদরাসার মতো ছাত্র-শিক্ষকের এমন মুহব্বত তিনি কোথাও দেখেননি।

উনার মুখে একটি কথা আমি অনেকবার শুনেছি, তিনি বলতেন, আমাদের মতো এমন ভদ্র ও শান্তিপ্রিয় দুই শাতাধিক ছাত্রের ব্যাচ তিনি আর পান নি। জানিনা, গত দুই বছরে এমন আরেকটি ব্যাচ গড়ে উঠলো কি না। হুজুর দূরে আছেন বা এ লেখা পড়বেন না জেনে অনেকে ভাববেন হয়তো এখানে আমি ফোকাস মারতেছি, যদি জানতে আগ্রহি হও পাঠক, ৫২ তম (আলবাব-খাইরুলদের) ব্যাচ কেমন ছিলো হুজুরকে একবার জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

আল্লাহ তায়ালা হুজুরের হায়াতকে বরকতময় করুন।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 14
    Shares