নয়া জামানার নতুন ইশতেহার!

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৩, জুলাই, ২০২১, শনিবার
<strong>নয়া জামানার নতুন ইশতেহার!</strong>

মুহাম্মদ নিযামুদ্দীন মিসবাহ : বিজয়বাংলার মহানগর রিপোর্টারের কাছে দুটি এপয়র্টম্যান্ট ছিলো প্রায় কাছাকাছি সময়ে। মগবাজারের কাছে একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত জামাতে ইসলামের কর্মী সমাবেশ বিকাল ৩টায় অপরটি ইসলামী আন্দোলনের পুরানা পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় অফিসে বিকাল ৫টায়।

সময়ের হিসাবে দুটি প্রোগ্রাম কভার করা কষ্টসাধ্য হবে বুঝলাম, কিন্তু ইন্সট্র্যুমেন্ট স্বল্পতার কথাটাও আমাকে মাথায় রাখতে হয়। রিপোর্টার আশফাক সালেহীনকে কষ্টে ম্যানেজ করতে হলো।

সে বারবার মাথা নাড়ছিলো। যুক্তি ছিলো তার কথায়। বললাম, শুনো- জামাতের প্রোগাম যথাসময়েই শুরু হবে, তুমি ধরে নিতে পারো। সুতরাং প্রধান বক্তা ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ভাইয়ের বক্তব্যটা কভার করেই তুমি বেড়িয়ে পড়বে। ইসলামী আন্দোলনের প্রোগ্রামটার শেষ দিক কভার করলেই হবে। নায়েবে আমীর মুফতি ফয়জুল করীম সাহেবের বক্ত্যটা কভার করলেই হলো। বেছারা আমতা আমতা করে রাজী হলো।

বিকাল ০৬ টার দিকে আশফাক হুড়মুড় করে অফিসে ঢুকে সোজা আমার টেবিলে। যা একটা দৌঁড়ানো প্র্যকটিস হলো আজ। কষ্ট একটু বেশী হলেও সারপ্রাইজ আছে ভাই! দেখুন দুই দলের নেতারা আজ কী বলেছে। অসাধারণ বলেছেন দুজনই।

প্রথমেই মাসুদ ভাইয়ের বক্তব্যের ক্লিপসটা প্লে করলো আশফাক। মাসুদ ভাই বরাবরের মতোই হৃদয়ের সবটুকটু আবেগ উষ্ণতা ঢেলে দিয়ে বলছেন, দীর্ঘদিন লক্ষ্য করছি আমাদের অনেক কর্মীরা ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে বাজে মন্তব্য করে যাচ্ছেন। একটি ইসলামী সংগঠনের ব্যাপারে আমাদের এই নেতিবাচক মনোভাব আখেরে নিজেদের জন্যই বুমেরাং হয়ে যাবে। রাজনৈতিক পটভূমি দ্রত পাল্টাচ্ছে। এই মুহুর্তে অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে আমাদের কৌশলী হয়ে কাজ করতে হবে। ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের দিকে আপনারা তাকান। ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলেরাও পাগড়ী জুব্বা পড়ে সংগঠনের কাজ করছে। এটা কম মুজাহাদার বিষয় ভেবেছেন? তাদের আমাদের মাঝে অনেক দূরত্ব থাকলেও তারা আমাদের ইতিবাচক সকল সাংগঠনিক সিস্টেমওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে। আজ মানুষ অহংকার বশত নিজের বন্ধুদেরই ফলো করতে চায়না। কিন্তু ইসলামী আন্দোলন? তারা এই সংকীর্ণতাকে এড়িয়েছে, এটাকে আপনারা এপ্রিশিয়েড করবেননা?
কবে, কে, কোন বইয়ে কী লিখেছে এসব নিয়ে গোয়ার্তুমি আমরা আজ থেকে সহ্য করবোনা। এখন থেকে সকল ইসলামী দলগুলোর দূর্বলতার সমালোচনার পরিবর্তে সৎ গুনাবলীর প্রশংসা করার মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

বক্তব্যটা দ্রুত শেষ হওয়ায় একটু খারাপই লাগছে আমার।
:তুমি কি বক্তব্য পুরোটা রেকর্ড না করেই চলে এসেছো?
: কী যে বলেন! প্রশাসনের যুদ্ধদেংহী মনোভাবের মাঝখানে দ্রুত প্রোগ্রাম শেষ করার একটা তাড়া ছিলোনা? এছাড়া প্রধান অতিথি ডাক্তার শফিক ভাইকেও তো বক্তব্য দিতে হবে। তাইনা?

আচ্ছা আন্দোলনের নায়েবে আমীরের বক্তব্যটা প্লে করো! আশফাক এবারও মুচকি মুচকি হাসছে।

মুফতি ফয়জুল করীমের চেহারায় সব সময়ই শিশুসুলভ একটা সরলতা আভা ছড়িয়ে থাকে। আজ সেটা আরো প্রোজ্জ্বল।
তিনি বললেন, ভাইয়েরা জামাতের নাম শুনলেই চুলকানো উঠার সমাপ্তি হওয়া দরকার। আমাদের এই ভাইয়েরা এ পর্যন্ত যতো নিপীড়ন সয়েছে তা এক কথায় নজীর বিহীন। আমাদের মতো দল, যাদের দুয়েকজন নেতাকর্মী জেলে গেলেই যেভাবে বউয়ের আঁচলে যাইয়া মুখ লুকিয়ে ফেলি। আর আমাদের জামাতী ভাইয়েরা? এতো গুলো নেতার ফাঁসি, খুন, গুম, জেল, নির্যাতন সয়েও ময়দানে যেভাবে দৃঢ়তার সাথে কাজ করছে, তা ইসলামের অনুসারী কোন দল ছাড়া কারো পক্ষে সম্ভব ছিলো? তাদের কিছু ভুল আছে। ভুল নাই কার? তাই বলে তাদেরকে বাতিল বাতিল বলে মুখে ফেনা তোলার কাজ আমাদেরকে ত্যাগ করতে হবে।
এ জমিনে হিন্দু বৌদ্ধ খৃস্টান ঐক্য পরিষদ গঠন হতে পারলে ইসলামী শক্তির একটি বৃহত্তর প্লারফর্ম গঠন করতে আমরা সর্বোচ্ছ ত্যাগ স্বীকার করার ঘোষণা দিচ্ছি।

বক্তব্যটা শোনার সময়ে নিঃশ্বাস ফেলতেই ভুলে গিয়েছিলাম!
ওফ্. আল্লাহ! আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবো ইশফাক। আমার মন বলছে, এ দেশে ইসলামপন্থীরা আবার ইম্পোর্ট্যান্ট হয়ে উঠবে!
এডিটিং রুমে দ্রুত পাঠাও!
নয়া জামানার নতুন ইশতেহার দ্রত জাতিকে পাঠ করে শুনাও!

ভাইয়েরা! এটা একটি কল্পনার ফাঁনুস ছিলো।
সত্যি না হোক এমন কল্পনা করতে এই শাটডাউনের সময়ে একেবারে মন্দ লাগেনা।
লেখক: সম্পাদক,bjoybanla.com

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 43
    Shares