শুধুমাত্র বিদ্যালয়, পড়া-লেখা ও কুরআন পাঠই তরবিয়তের জন্য যথেষ্ট নয়

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৬, জুলাই, ২০২১, মঙ্গলবার
<strong>শুধুমাত্র বিদ্যালয়, পড়া-লেখা ও কুরআন পাঠই তরবিয়তের জন্য যথেষ্ট নয়</strong>

হাম্মাদ সাফীঃছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠানোর পাশাপাশি বাড়িতে পড়া-লেখা ও কুরআন পাঠ করার পরে, পিতা-মাতারা ভাবেন যে, তারা তাদের ছেলে-মেয়েদের ভালো তরবিয়তের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। বিষয়টি মোটেও এমন নয়। কারণ, তরবিয়তের শিক্ষাদান একেবারেই ভিন্ন বিষয়।

এটি এমন এক বিষয়, যা আজকের পিতা-মাতাকে বুঝা দরকার।

যে ব্যক্তি শিশুদের থেকে দূরে থাকে এবং নিজের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সে কিভাবে অর্থের ভিত্তিতে নিজেকে ধনী ও সফল হিসেবে বিবেচনা করতে পারে?

আসল মূলধন শিশুদের ক্ষেত্রে আমাদের পুরো সমাজ অবহেলায় ভুগছে।

যদি আপনার শিশুটি কেবল আপনার ভয়ে নামাজ পড়ে। তবে এটি তার ভালো তরবিয়তের লক্ষণ নাও হতে পারে, তবে একই শিশু যদি আল্লাহর ভয়ে নামাজ পড়ে, তবে তা তার ভালো তরবিয়তের প্রমাণ।

এটিই আল্লাহর ভয়, যা মানুষকে মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখে এবং সৎকর্মের দিকে উৎসাহ দেয়। যেহেতু আল্লাহর ভয় আজ সমাজ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে, তাই আপনি সর্বত্র মিথ্যা ও প্রতারণা দেখতে পাবেন। পশ্চিমা সমাজ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমরা ইসলামের বুনিয়াদি ও পথনির্দেশক নীতিগুলি ভুলে গেছি। তাই আজকের শিক্ষিত প্রজন্মও ভালো তরবিয়তের অভাবে তাদের নিজ পিতা-মাতার জন্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমি শিশুদের তরবিয়ত শিক্ষাদানের বিষয়ে আমার শিক্ষকদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আমি বুঝতে পেরেছিলাম তা হল, আমার শিক্ষকরা সর্বদা কুরআন-সুন্নাহর মাধ্যমে আমার তরবিয়তের উপর জোর দিয়েছিলেন। এবং এটিই আমার সাফল্যের গোপন রহস্য।

আজ এমন শিক্ষার ফলে ও আল্লাহর অনুগ্রহে আমার পিতা-মাতা ও শিক্ষক সবাই আমার চলা-ফেরা ও আচার-আচরণে সন্তুষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ।

সমাজকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় কোরআন-সুন্নাহ। আমাদের পুরো সমাজ আজ যে নৈতিক কুফল এবং মানসিক অশান্তি ভোগ করছে, তা ইসলামিক শিক্ষা-দিক্ষা থেকে দূরে থাকার ফলেই হয়েছে।

অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে তাদের নিজেদের হাতে আত্মহত্যার প্রস্তাব দিচ্ছি।

আমাদের অগ্রগতি হতে হবে এবং ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। কিন্তু প্রযুক্তির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আমাদের আজকের প্রজন্ম ঝুঁকির মুখোমুখি হয়েছে।

মোবাইল ফোনের মতো বিপজ্জনক ডিভাইসটি এখনও আমাকে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র একটি ল্যাপটপ, তাও শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই কঠোরতাটি কেবল আমার অল্প বয়সকে মাথায় রেখেই করা হয়েছে।

আপনারা সকলে ভাল করেই জানেন যে, অনেক বাড়িতেই ছেলেরা সমাজের ক্যান্সারে পরিণত হয়েছে টিকটক এবং পাব জি-এর মতো মারাত্মক নেশায় ডুবে।

আমি আপনাদের সবাইকে বলি, আমার ঘুম থেকে জাগা সহ পুরো দিনের একটি সম্পূর্ণ রুটিন রয়েছে। যা আমাকে আমার সময় সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে সহায়তা করে।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সহ আপনার বাচ্চাদের জন্য একটি রুটিন তৈরি করুন। একইভাবে আপনার বাচ্চাদের নিয়ন্ত্রণ করুন এবং তাদের অভ্যাস ও আচার-আচরণ ঠিক করুন। এর মাধ্যমে একটি উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। এবং ধীরে ধীরে আমাদের দেশ একটি সভ্য ও আদর্শ রাষ্ট্রে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।

অনুবাদঃ মাওলানা নাঈম আহমদ।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 2
    Shares