আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. এর হালকায়ে জিকির শুরু হলো যেভাবে

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৭, জুলাই, ২০২১, বুধবার
<strong>আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. এর হালকায়ে জিকির শুরু হলো যেভাবে</strong>

সদর সাহেব হুজুর বলিলেন-তাড়াতাড়ি হাজীগঞ্জের হুজুরের কাছে যাও।আল্লাহ একটি জিনিস দান করিয়াছেন।তাহাকে দেখাইয়া দিয়া সাফ করিয়া লেখাইয়া আন।কি জিনিস তাহা বলিলেন না।আমি দৌঁড়াইয়া হাজীগঞ্জের হুজুর মাওলানা আব্দুল হাফিজ সাহেবের নিকট গিয়া বলিলাম-হযরত সদর সাহেব আপনার নিকট পাঠাইয়া দিয়াছেন।কি একটা নিয়ামত নাকি দিয়াছেন। তাহা দিয়া দিন। তিনি বলিলেন- এখনো পরিস্কার করিয়া লিখি নাই।হুজুরের নিকট সংবাদ দিলাম,এখনো সাফ করিয়া লেখেন নাই। হুজুর বলিলেন,বার বার যাও।তাগিদ দিতে থাক। লেখাটা নিয়া আসিলাম।অতঃপর বলিলেন-বহুদিন যাবত চিন্তা
করিতেছিলাম।যিকিরের মজলিস সম্পর্কে কি পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়। আল্লাহ পাকের শোকর।আমার দিলের মধ্যে যিকিরের মজলিসের মজমুন আল্লাহপাক ঢালিয়া দিয়াছেন।

আলহামদুলিল্লাহ, তাহার পর তাফসীরের মজলিস নাম দিয়া বিশিষ্ট আলেমদিগকে গওহরডাঙ্গায় ডাকাইলেন।মজলিস আরম্ভ হইল। যশোরের মুহাদ্দিস মাওলানা আবুল হাসান যশোরী উপস্থিত হইলেন।মাগরিবের পরে যশোরের মুহাদ্দিস সাহেবের বয়ানের জন্য সময় নির্ধারণ হইল। হুজুর খানকায় তাশরিফ রাখিলেন।আমাকে বলিলেন-জিকিরের মজলিসের মজমুনটা মুহাদ্দেস সাহেবকে দেখাও। আমি নিয়া দেখাইলাম। তিনি মাগরিবের পর হইতে ঐ নকশা অনুযায়ী যিকিরের মশক করাইতে লাগিলেন। সভামঞ্চ হইতে বারবার তাগিদ হইতেছিল। তাফসীরের মজলিসে মুফাসসেরে কুরআন আলেমগণ অপেক্ষা করিতেছিল।তাহাদের তাফসীর করিতে সময় দেয়া হউক।

আমি হুজুরের কাছে গিয়া বলিলাম।হুজুর হুকুম করিলেন-পুরা মজমুন শেষ করিতে বল।মুহাদ্দেস সাহেব উহা অবলম্বনে দীর্ঘ সময় বার তাসবীহর জিকির মশক করাইলেন।সে যে কী অপূর্ব দৃশ্য। রোনাজারী ও আল্লাহর এশকের বহিঃপ্রকাশ তাহা ভাষায় ব্যক্ত করা যায় না।

সভা খতম হইয়া গেল। মুহাদ্দেস সাহেব নেয়ামত পাইয়া কাঁদিতে কাঁদিতে হুজুরের দুই পা জড়াইয়া ধরিয়া বেহুশ প্রায় হইলেন। হুজুর সান্ত্বনা দিলেন। আলেমদের বলিলেন-আপনারা আল্লাহর মহব্বত শিখুন।মুহাদ্দেস সাহেবকে অবজ্ঞা করিবেন না। তাহাকে আল্লাহপাক মহব্বতের দৌলত দিয়াছেন। উক্ত মজমুন প্রশ্নোত্তরে তাসাউউফ নামক কিতাবে ছাপাইয়া প্রকাশ করিয়াছি। এইভাবে যিকিরের মজলিস করিতে হুজুর আদেশ দিয়াছিলেন।

যিকিরের মজলিসের নকশা নিয়া সর্বত্র উহার প্রচার করিতে লাগিলাম। হুজুর ঢাকায় তাশরীফ আনিলেন। লোকেরা যিকির শিক্ষার জন্য সময় চাহিলে হুজুর বলিলেন-রবিবার সরকারী ছুটি।অতএব সরকারী করমচারীগণের জন্য শনিবার বৈকালে মজলিসের সময় নির্ধারণ করা হউক।

লালবাগ শাহী মসজিদে প্রতি শনিবার যিকিরের মজলিস হইতে আরম্ভ হইল। আছরের পরে মালফুজাত শোনান। বাদ মাগরীব যিকিরের মশক হইতে লাগিল।..
যিকিরের মজলিসে বহু লোকের হাল গালেব হইতে লাগিল। মুহাদ্দিসীনে কেরাম ও শিক্ষকবৃন্দ উহাতে শরীক হইয়া বিশেষভাবে আকৃষ্ট হইলেন।…

আমার মোরশেদ হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. নামক বই থেকে চয়িত।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 17
    Shares