স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড অযোগ্যতার দলিল’- বিএমএ

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ৮, জুলাই, ২০২১, বৃহস্পতিবার
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড অযোগ্যতার দলিল’- বিএমএ

ন্যাশনাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলা করার যুক্তি দেখিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বারশো’র বেশি চিকিৎসককে বদলির যে আদেশ দিয়েছিল, সেটাকে ঐ মন্ত্রণালয়ের বিশৃঙ্খলা এবং অযোগ্যতার দলিল হিসাবে বর্ননা করেছে চিকিৎসকদের প্রধান সংগঠন বিএমএ।

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, সরকারি ঐ আদেশে মৃত চিকিৎসককে বদলি করা সহ নানা অসংগতি তাদেরকে হতবাক করেছে।

“এই আদেশ হযবরল। মন্ত্রণালয় যে অস্থির এবং তাদের যে বেহালদশা, এই আদেশের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে” বলেন বিএমএ মহাসচিব।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ’বিষয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করলেও, আদেশে অসংগতিগুলো সংশোধন করার কথা জানিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কর হয়েছে।

তবে চিকিৎসক নেতারা বলেছেন, সংক্রমণের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অব্যবস্থাপনা এবং অনেক ক্ষেত্রে বিতর্কিত পদক্ষেপের কারণে মহামারি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

মৃত চিকিৎসককে বদলি
আকস্মিকভাবে সারাদেশে সরকারি মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালের বারশো’র বেশি চিকিৎসককে বদলি এবং পদায়নের আদেশ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বগুড়া এবং রংপুরে সরকারি হাসপাতালের দু’জন চিকিৎসক মারা গেছেন ছয়মাস আগে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে সেই মৃত চিকিৎসকদেরও বদলি করা হয়।

এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসককে বদলি করা সহ নানা অসংগতির অভিযোগ উঠেছে।

বিএমএ-র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বা বিএমএ’র নেতৃত্বে এখন সরকার সমর্থক চিকিৎসকরা রয়েছেন।

সেই সংগঠন মন্ত্রণালয়ের এ ধরনের আদেশের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।

বিএমএ’র মহাসচিব মো: এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেছেন, মহামারি মোকাবেলায় বার বার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অব্যবস্থাপনা দৃশ্যমান হয়েছে, সর্বশেষ চিকিৎসক বদলির আদেশেও তার প্রমাণ মিলেছে বলে তারা মনে করেন।

“এই আদেশটা মন্ত্রণালয়ের হযবরল, অস্পষ্ট, এমনকি শিষ্টাচার বহির্ভূত, অনাকাঙ্খিত এবং একটা অযোগ্যতার দলিল হিসাবে আমরা দেখি” বলেন বিএমএ নেতা মি: চৌধুরী।

”মন্ত্রণালয় যে অস্থির এবং তাদের যে বেহালদশা, এই আদেশের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে।”

বিএমএ কেন এত ক্ষুব্ধ?
বিএমএ যে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, তার পেছনে যুক্তি হিসাবে সংগঠনটির মহাসচিব মি: চৌধুরী চিকিৎসক বদলির মন্ত্রণালয়ের আদেশে, তাদের ভাষায় ‘নানা অসংগতি’কে তুলে ধরেন।

“আদেশটাকে হযবরল বলেছি, কারণ মাইক্রোবাইয়োলজির ডাক্তার যিনি আরটিপিসিআর ল্যাবে কোভিড টেস্টের কাজ করছেন, তাকে আপনি বললেন যে উপজেলায় গিয়ে করোনা রোগীর চিকিৎসা করেন।

”এটা কি হযবরল নয়?

“নিউরো-সার্জারির ডাক্তারকে আপনি বললেন যে, তুমি উপজেলায় গিয়ে করোনা রোগীর চিকিৎসা করো।

‘ এটা তাদের (স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়) জ্ঞানের অভাব” বলে মন্তব্য করেন বিএমএ মহাসচিব।

চিকিৎসক বদলির আদেশে ব্যাপারে বিএমএ বৈঠক করে তাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে।

কিন্তু তারা কোন সদুত্তর এখনও পাননি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক চিকিৎসকদের আরেকটি সংগঠন স্বাচিব এর পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্বাস্থ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনার কারণে সংক্রমণের দেড় বছর পরও অক্সিজেন সরবরাহে ঘাটতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার বেহালদশা থাকছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বলেছেন, অব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতাতেই এখন চিকিৎসক বদলির আদেশে নানা অসংগতি দেখা যাচ্ছে।

“শুরু থেকেই যে অব্যবস্থাপনা, সেটা আমরা সবাই দেখেছি,” তিনি বলেন।

তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি যখন চরমে এবং দেশে রোগীর অনুপাতে ডাক্তারের সংখ্যা অনেক কম, সেখানে জেলা উপজেলায় ডাক্তারদের পদায়ন বা বদলি সবাই সমর্থন করবে।

”কিন্তু তাই বলে মৃত নাকি জীবিত ব্যক্তিকে দিচ্ছি-সেটা খেয়াল করছি না, এটাতো হতে পারে না” বলেন অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানে না
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে একযোগে এত সংখ্যক চিকিৎসককে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা প্রকাশ হওয়ার আগ পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানতো না বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হকও সমালোচনা করেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডের।

তিনি বলেছেন, তারা শিগগিরই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সর্বশেষ বদলির আদেশ সহ অব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানতে চাইবেন।

“খুব চিন্তাভাবনা করে কাজগুলো করা হচ্ছে না। সর্বশেষ আদেশটাতে জগাখিচুড়ি করা হয়েছে,” তিনি বলেন।

কী বলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
চিকিৎসক বদলির আদেশ নিয়ে নানা অভিযোগের ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বেশি কিছু বলতে রাজি হননি।

“এটা প্রশাসনিক বিষয় এবং এনিয়ে কথা বলার বা আলোচনা করার কিছু নেই,” তিনি বলেন।

তবে আলোচনা-সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভুলগুলো সংশোধন করার কথা জানিয়ে ইতিমধ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বিজয়বাংলা/এনএম/৮/৭/২১

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন