লালবাগ হালকায়ে যিকিরে বাঁধা এলো যেভাবে

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১০, জুলাই, ২০২১, শনিবার
<strong>লালবাগ হালকায়ে যিকিরে বাঁধা এলো যেভাবে</strong>

মঈনুদ্দীন খান তানভীরঃ আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. এর নির্দেশনায় লালবাগ শাহী মসজিদে যিকিরের মজলিস চলিতে লাগিল।প্রতি শনিবার বৈকালে বহু সংখ্যক লোক সমবেত হইতে থাকে।আমরা তারিখ মত মফঃস্বল হইতে ঢাকায় লোকজনসহ হাজির হইলাম।মাগরিবের পর হুজুর আমাকে ডাকিয়া বলিলেন, যিকিরের মশক হইবে না।মজলিস হইবে না। যাহারা আসিয়াছেন, তাহাদিগকে কিছু মোজাকারা করিয়া বিদায় দাও।এ কী কথা বলেন হুজুর!কেন মজলিস হইবে না?বলিলেন,মসজিদ কতৃপক্ষের নিষেধ।যেহেতু মসজিদে সম্পূর্ণ আমাদের স্বাধীনতা নাই,সেহেতু এখানে সম্ভব নহে।ইনশাআল্লাহ, গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার খানকায় মজলিস করিব।এশার পর বিস্তারিত জানিতে চাইলে হুজুর বলিলেন,যিকিরের মজলিসের জনপ্রিয়তা হয়তো কাহারো গাত্রদাহের কারণ হইয়াছে।
ঢাকা হইতে এই যিকিরের মজলিসের বিরুদ্ধে করাচীতে হযরত মাওলানা যাফর আহমদ উসমানী সাহেবের নিকট লেখা হইল-মাওলানা শামছুল হক সাহেব লালবাগ শাহী মসজিদে যিকিরের মজলিস করিয়া লোকজনের ভিড় জমাইতেছেন।যিকিরে জলী করেন।লোকদের মধ্যে অযদের হালত হয়।ইতিপূর্বে কখনো এরূপ করেন নাই।
পত্রের উত্তর আসিল- আমাদের পূর্ববর্তী বুযুর্গগণ এরূপ করেন নাই।ইহা পূর্ববর্তীগণের তরীকা নহে।

হুজুর পত্র দেখিয়া বিশিষ্ট আলিম, তালেবে-সাদেকগণকে বলিলেন,আমি তাসাউউফের ইমাম মারুফ কারখি,সায়্যেদুনা আব্দুল কাদের জিলানি,খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী, জোনায়েদ বাগদাদী,বাহাউদ্দীন নকশেবন্দীকে পড়িয়াছি,গবেষণা করিয়াছি,আমি নিজেও আলহামদুলিল্লাহ তাসাউউফের ইমামের হাইসিয়ত রাখি।এই ফেতনার জমানায় উম্মতকে হক রাস্তায় কি করিয়া রাখা যায়।সুন্নত তরীকায় তরীকতের তালীম তারবিয়াত করা যায়।তাহা ভাবিয়া চিন্তিয়া এই পদ্ধতি আল্লাহর তরফ হইতে পাইয়াছি।ইহা কোন বেদাত নহে।অথচ এই মহৎ কাজটা লালবাগে আমাকে করিতে দিল না।

গোটা দেশের ভক্ত অনুরক্তদের প্রাণে আঘাত হানিল।কছদুছছাবিল,তালীমুদ্দীন,জিয়াউল কুলুব,প্রথম সবক,দোসরা সবক,তওবা নামা ইত্যাদি পুস্তকের তালিমই তো দিতেছি।তাহা সহ্য হইল না।নিরপেক্ষ স্বাধীন খানকাহ মসজিদ আপাতত ঢাকায় নেই,যেখানে এই কাজ সঠিকভাবে করিতে পারি।ইহা কোন মাদ্রাসায় সম্ভব নহে।কেননা মাদ্রাসার সব লোক একমনা হয় না।আল্লাহ সুযোগ দিলে এই কাজ জারি করিতে পারিবে।

অবশেষে ১৯৬৭ সনে গওহরডাঙ্গায় চলিয়া গেলেন।…
একদিন আসরের পর সমস্ত হুজুরকে হুজুরের বাড়িতে ডাকিয়া নিলেন।আর বলিলেন,আমি সুদীর্ঘ ২২ বছর পর্যন্ত থানভী রহ. এর সোহবতে থাকিয়া যেই মারিফতের ইলম আমল শিক্ষা করিয়া আসিয়াছিলাম,আপনারা সেই ইলম ও আমলকে মারিয়া ফেলিবেন না।কমপক্ষে প্রতি বৃহস্পতিবার বৈকালে নিজেরা বসিয়া কছদুছছাবিল কিতাবের তালিম করিবেন।..

ক্রমশ..

‘হুজুরের একান্ত শাগরিদ ও কর্মী মাওলানা ফজলুর রহমান রহ. বিরচিত জীবনী থেকে চয়িত’।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন