যিলহাজ্বের ১ম দশ দিনের‌ আমল ও ফজিলত

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১০, জুলাই, ২০২১, শনিবার
<strong>যিলহাজ্বের ১ম দশ দিনের‌ আমল ও ফজিলত</strong>

||হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আনসারুল ইসলাম সিদ্দীকি||

আলহামদুলিল্লাহ আসসালাতু ও য়াসসালামু আলা মান লা নাবিয়্যা বায়াদা, কুরআন সুন্নাহর আলোকে নিম্নে উপস্থাপন করা হলো। ✓✓পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,[

وَالفَجر
কসম ভোরবেলার।
وَلَيالٍ عَشرٍ

কসম দশ রাতের। ( ৮৯:২ আল ফাজর) وَيَذكُرُوا اسمَ اللَّهِ في أَيّامٍ مَعلومات আর তারা নির্দিষ্ট দিনসমূ আল্লাহ. নামের স্মরণ করতে পারে।
[২২:২
সুরা আল হাজ্জ]এই আয়াতে কারিমা গুলিতে অধিকাংশ মুফাচ্ছিরিনে কিয়ামের মতে জিলহাজ্বের ১ম ১০ দিনের কথা বলা হয়েছে।
✓✓হাদিস শরিফে রয়েছে. عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ ‏”‏ مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامِ الْعَشْرِ أَفْضَلَ مِنَ الْعَمَلِ فِي هَذِهِ ‏”‏‏.‏ قَالُوا وَلاَ الْجِهَادُ قَالَ ‏”‏ وَلاَ الْجِهَادُ، إِلاَّ رَجُلٌ خَرَجَ يُخَاطِرُ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ بِشَىْءٍ ‏”‏‏.‏

ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের ‘আমলের চেয়ে অন্য কোন দিনের ‘আমলই উত্তম নয়। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয়? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা ছাড়া যে নিজের জান ও মালের ঝুঁকি নিয়েও জিহাদে যায় এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।

সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৯৬৯

✓✓১-৯ তারিখ পর্যন্ত রোজা রাখা :-
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ ‏.‏ وَقَدِ اسْتَحَبَّ أَهْلُ الْعِلْمِ صِيَامَ يَوْمِ عَرَفَةَ إِلاَّ بِعَرَفَةَ ‏.‏

আবূ কাতাদা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি আল্লাহ্‌ তা’আলার নিকট আরাফাতের দিনের রোযা সম্পর্কে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।
সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (১৭৩০) মুসলিম

ফুটনোটঃ
আরাফাতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ছাড়া অন্যদের জন্য এই দিনে রোযা পালন করাকে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন।
জামে’ আত-তিরমিজি, ৭৪৯
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الأَنْصَارِيِّ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ صَوْمِهِ قَالَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ عُمَرُ رضى الله عنه رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَبِبَيْعَتِنَا بَيْعَةً ‏.‏ قَالَ فَسُئِلَ عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ فَقَالَ ‏”‏ لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ ‏”‏ ‏.‏ أَوْ ‏”‏ مَا صَامَ وَمَا أَفْطَرَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمَيْنِ وَإِفْطَارِ يَوْمٍ قَالَ ‏”‏ وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمٍ وَإِفْطَارِ يَوْمَيْنِ قَالَ ‏”‏ لَيْتَ أَنَّ اللَّهَ قَوَّانَا لِذَلِكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمٍ وَإِفْطَارِ يَوْمٍ قَالَ ‏”‏ ذَاكَ صَوْمُ أَخِي دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ قَالَ ‏”‏ ذَاكَ يَوْمٌ وُلِدْتُ فِيهِ وَيَوْمٌ بُعِثْتُ أَوْ أُنْزِلَ عَلَىَّ فِيهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ ‏”‏ صَوْمُ ثَلاَثَةٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانَ إِلَى رَمَضَانَ صَوْمُ الدَّهْرِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ فَقَالَ ‏”‏ يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ وَالْبَاقِيَةَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ فَقَالَ ‏”‏ يُكَفِّرُ السَّنَةَ الْمَاضِيَةَ ‏”‏ ‏.‏ وَفِي هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ رِوَايَةِ شُعْبَةَ قَالَ وَسُئِلَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الاِثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَسَكَتْنَا عَنْ ذِكْرِ الْخَمِيسِ لَمَّا نَرَاهُ وَهْمًا ‏.

আবূ ক্বাতাদাহ্ আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। এতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসন্তুষ্ট হলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমরা আল্লাহ্‌র উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দ্বীন হিসেবে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর (আমাদের) রসূল হিসেবে এবং আমাদের কৃত বাই’আতের উপর আমরা সন্তুষ্ট। অতঃপর সারা বছর সওম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি, ইফত্বার করেনি, সে সওম পালন করেনি এবং সওমহীনও থাকেনি। অতঃপর একাধারে দুদিন সওম পালন করা ও একদিন সওম পালন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞস করা হ’ল। তিনি বললেন, এভাবে সওম পালনের সামর্থ্য কার আছে? অতঃপর একদিন সওম পালন ও দু’দিন সওম ত্যাগ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল। তিনি বললেন, আল্লাহ যেন আমাদের এরূপ সওম পালনের সামর্থ্য দান করেন। অতঃপর একদিন সওম পালন করা ও একদিন না করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল। তিনি বললেন, তা আমার ভাই দাঊদ (আঃ)-এর সওম। অতঃপর সোমবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনই আমি নুবূয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার উপর (কুরবান) নাযিল করা হয়েছে। তিনি আরও বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন এবং গোটা রমাযান সওম পালন করাই হ’ল সারা বছর সওম পালনের সমতূল্য। অতঃপর ‘আরাফাহ্‌ দিবসের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলেন তিনি বললেন, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের কাফ্‌ফারা হয়ে যাবে। অতঃপর ‘আশূরার সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, বিগত বছরের গুনাহের কাফ্‌ফারাহ্‌ হয়ে যাবে।
এ হাদীসে শু’বাহ্-এর বর্ণনায় আরও আছে, “অতঃপর সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সওম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হ’ল”। কিন্তু আমাদের বৃহস্পতিবারের কথা ভুলবশতঃ বর্ণিত হয়েছে, তাই আমরা তার উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলাম (সহীহ মুসলিম ই.ফা. ২৬১৪)
حَفْصَةَ، قَالَتْ: ” أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِيَامَ عَاشُورَاءَ، وَالْعَشْرَ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ ”

হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, চারটি আমল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো পরিত্যাগ করতেন না। আশুরার দিনের সাওম (রোযা), যিলহজ্জ মাসের নয় দিনের সাওম (রোযা), প্রত্যেক মাসে তিন দিনের সাওম (রোযা) এবং ফজরের দুরাকাআত সুন্নাত।

সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৪১৬
✓✓ যিলহাজ্বের চাঁদ ওঠার পর সকল খুড় কর্মক
বন্ধ রাখা মুস্তাহাব আমল:- যে কুরবানী করবে ও যে করবেনা উভয় এই আমল করতে পারবে। যেমন হাদীস শরীফে রয়েছে,. عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ عَمْرٍو، أَوْ عُمَرَ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ مَنْ رَأَى هِلاَلَ ذِي الْحِجَّةِ وَأَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ فَلاَ يَأْخُذَنَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلاَ مِنْ أَظْفَارِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالصَّحِيحُ هُوَ عَمْرُو بْنُ مُسْلِمٍ قَدْ رَوَى عَنْهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَلْقَمَةَ وَغَيْرُ وَاحِدٍ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ نَحْوَ هَذَا ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ كَانَ يَقُولُ سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَإِلَى هَذَا الْحَدِيثِ ذَهَبَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏ وَرَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي ذَلِكَ فَقَالُوا لاَ بَأْسَ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ .‏

উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে লোক যিলহাজ্জের নতুন চাঁদ দেখেছে এবং কুরবানীর নিয়াত করেছে সে যেন নিজের চুল ও নখ (কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত) না কাটে।
সহীহ ইবনু মা-জাহ (৩১৪৯), মুসলিম

ফুটনোটঃ
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। সহীহ্ বর্ণনামতে নামটি হবে আমর ইবনু মুসলিম (উমার ইবনু মুসলিম নয়)। তার নিকট হতে মুহাম্মাদ ইবনু আমর ইবনু আলকামা ও অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটি একাধিকভাবে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব হতে, তিনি আবূ সালামা হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
একদল আলিমের এই অভিমত (তারা কুরবানী করার আগে নখ-চুল না কাটার কথা বলেছেন)। এ কথা বলেছেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিবও। এ হাদীস মোতাবিক আহমাদ ও ইসহাকও আমল করেছেন। নখ-চুল কাটার পক্ষে অন্য একদল আলিম সম্মতি প্রদান করেছেন। তারা বলেছেন, (কুরবানী করার পূর্বে) নখ-চুল কাটায় সমস্যা নেই। একথা বলেছেন শাফিঈ।

জামে’ আত-তিরমিজি ১৫২৩
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ أُمِرْتُ بِيَوْمِ الأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الأُمَّةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ الرَّجُلُ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلاَّ أُضْحِيَةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا قَالَ ‏”‏ لاَ وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ وَأَظْفَارِكَ وَتَقُصُّ شَارِبَكَ وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ فَتِلْكَ تَمَامُ أُضْحِيَتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমি কুরবানীর দিনকে ঈদ উদযাপন করতে নির্দেশপ্রাপ্ত হয়েছি। আল্লাহ এ দিনকে এ উম্মাতের জন্য ঈদ হিসাবে নির্দিষ্ট করেছেন। এক ব্যক্তি বললো, আপনার অভিমত ব্যক্ত করুন, আমি (আমার প্রতিপালিত) দুগ্ধবতী বা মালবাহী পশু ছাড়া অন্য পশু না পেলে কি তা দিয়েই কুরবানী করবো? তিনি বললেনঃ না, বরং তুমি তোমার চুল ও নখ কাটবে, গোঁফ ছোট করবে এবং নাভীর নীচের লোম কাটবে। এ কাজগুলোই আল্লাহর নিকট তোমার পূর্ণাঙ্গ কুরবানী।

মিশকাত (১৪৭৯), আল-জামি’উস সাগীর (১২৬৫), সুনান নাসায়ী (২৯৪/৪৩৬৫)।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ২৭৮৯
✓✓ তাকবিরে তাশরিকের বিশেষ আমল:- কুরআন মাজিদে মহান আল্লাহ তায়ালার ইরশাদ ফরমান,وَيَذكُرُوا اسمَ اللَّهِ في أَيّامٍ مَعلومات আর তারা নির্দিষ্ট দিনসমূ আল্লাহ. তাকবির বলবে। হাদীস শরীফে রয়েছে, مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الثَّقَفِيُّ، قَالَ سَأَلْتُ أَنَسًا وَنَحْنُ غَادِيَانِ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَاتٍ عَنِ التَّلْبِيَةِ كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ كَانَ يُلَبِّي الْمُلَبِّي لاَ يُنْكَرُ عَلَيْهِ، وَيُكَبِّرُ الْمُكَبِّرُ فَلاَ يُنْكَرُ عَلَيْهِ‏.‏

মুহাম্মদ ইব্‌নু আবূ বাক্‌র সাক্বাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

তিনি বলেন, আমরা সকাল বেলা মিনা হতে যখন ‘আরাফাতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)-এর নিকট তালবিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, তালবিয়া পাঠকারী তালবিয়া পড়ত, তাকে নিষেধ করা হতো না। তাকবীর পাঠকারী তাকবীর পাঠ করত, তাকেও নিষেধ করা হতো না।
হাদিস নং ৯৭০
সুতরাং ৯ ই যিলহাজ্ব ফজর থেকে ১৩ ই যিলহাজ্ব আসর পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত জামায়াতে / একাকী আদায় কারী সকল নর নারীর জন্য তাকবিরে তাশরিক পড়া ওয়াজিব,তাকবিরে তাশরিক হলো: আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ্। (ফতোয়ায়ে শামী)
✓✓ ঈদের রাতে ইবাদত করার ফজিলত:- প্রিয় ইসলামী জনতা ঈদের রাত্রি 🌃 মূলত তামাশাই মধ্যে থাকার রাত্রি নয়,তা হলো ইবাদত করার রাত্রি। তাই আমরা এই রাত্রিতে ইশা ফজরের নামাজ অবশ্যই জামায়াতের সাথে আদায় করব, তাহাজ্জুদ, কুরআন তেলাওয়াত, ইসতিগফার, হেদায়েত পথে ইস্তিকামাত ও প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জিয়ারতের জন্য দোয়া করব ইনশাল্লাহ। প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিস পাকে রয়েছে,। عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَامَ لَيْلَتَيْ الْعِيدَيْنِ مُحْتَسِبًا لِلهِ لَمْ يَمُتْ قَلْبُهُ يَوْمَ تَمُوتُ الْقُلُوبُ

আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি দু’ ঈদের রাতে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদাত করবে তার অন্তর ঐ দিন মরবে না, যে দিন অন্তরসমূহ মরে যাবে। [ইবনে মাজাহ ১৭৮২]
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফীক দান করুন আমীন বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল মুরসালিন। সংকলনে ও রচনায়, হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আনসারুল ইসলাম সিদ্দীকি । খতিব, আল-আকসা জামে মসজিদ ,কুদাব গাজীপুর‌ সিটি কর্পোরেশন ,গাজীপুর।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 39
    Shares