সেজান জুস ফ্যাক্টরিতে আগুন: পত্রিকাগুলোর ব্রান্ড ভ্যালু রক্ষার পায়তারা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১০, জুলাই, ২০২১, শনিবার
<strong>সেজান জুস ফ্যাক্টরিতে আগুন: পত্রিকাগুলোর ব্রান্ড ভ্যালু রক্ষার পায়তারা</strong>

জিয়া হাসানঃ তুহিন ভাই ভালো একটা জিনিষ খেয়াল করছেন। প্রথম আলো , ডেইলি স্টার সহ প্রধান পত্রিকা গুলো, সবার মুখে প্রচলিত সজীব গ্রুপ এবং সেজান জুসের নামের বদলে অপরিচিত হাশেম ফুডসের নাম উল্লেখ করতেছে। যেহেতু পত্রিকা গুলোর সজীব গ্রুপ এবং সেজান জ্যুস থেকে বড় অংকের বিজ্ঞাপন পেয়ে থাকে। তাই তারা সচেতনে চেষ্টা করতেছে, তাদের বিজ্ঞাপন দাতার, তাদের উপরে এতো বছরের ইনভেস্টমেন্টের সজীব গ্রুপ এবং সেজান জুসের ব্রান্ড ভ্যালুটাকে রক্ষা করতে।

আমি নিজেই কিন্তু এই ট্র্যাপে পা দিয়েছিলাম। আমার প্রথম স্ট্যাটাসে আমি হাশেম বেভারেজ, এবং জনাব হাশেমের নাম দেখে ভেবেছিলাম পারটেক্স গ্রুপ। তার পরে আমার বেশ কিছু বন্ধু আমাকে কারেক্ট করে দেয়। তারপরে আমি আমার স্ট্যাটাস ঠিক করে নেই।

তুহিন ভাইয়ের রেফারেন্সে আমি প্রথম আলোর হোম পেজ চেক করলাম। যেহেতু, প্রথম আলো বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের বুদ্ধিবিত্তিক মননের উপরে প্রায় মনোপলি রাখে এবং প্রথম আলো যেহেতু সব কিছুর ভালোর সাথে থাকতে প্রতিস্রুতিবদ্ধ তাই, আমি প্রথম আলো কে গুরুত্ব দেই।
প্রথম আলোর হোম পেজে সার্চ করে, আমি প্রায় ১০ টি রিপোর্ট পেলাম। এর মধ্যে একটি রিপোর্ট প্রথম আলো সজীব গ্রুপের নাম উল্লেখ করেছে। কিন্তু বাকি সব গুলো রিপোর্টেই উল্লেখ করেছে, হাশেম গ্রুপের নাম।

কোন রিপোর্টে প্রথম আলো সেজান জুসের নাম উল্লেখ করে নাই। সব রিপোর্টে প্রথম আলো লিখেছে জুস ফ্যাক্টরি। এই আগুন যে সেজান জুসের ফ্যাক্টরিতে লেগেছে, তার কোন উল্লেখ প্রথম আলোর কোন রিপোর্টে নাই ।
এমন কি, প্রথম আলোর পেজে যে ইউটিউব ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। সেখানে সেজান জুসের কোন উল্লেখ করা হয় নাই। প্রচার করা হয়েছে, জুস ফ্যাক্টরি।

প্রথম আলোর এই রিপোর্ট গুলো পড়লে কারো জানার সুযোগ নাই, বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় ব্রান্ড সেজান জুস তৈরির ফ্যাক্টরিতে আগুন লেগেছে।
বাংলাদেশের মানুষ সজীব গ্রুপকে চেনে এবং সেজান জুসকে চেনে।
কিন্তু, প্রথম আলো খুব সচেতনে নিশ্চিত করেছে, এই অগ্নিকান্ডে যে ৫০ জন শ্রমিক এবং তাদের মধ্যে নাম না জানা অসংখ্য শিশু শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে, তার ফলে যে সজীব গ্রুপ এবং সেজান জুস নিয়ে মানুষের মনে যে নেতিবাচক ধারনা গড়ে উঠবে সেইটা যেন না ঘটে। মানুষ যেন কানেকশানটা ধরতে না পারে।

এইটা টেকনিকালি কোন অপরাধ না। কারণ, সজীব গ্রুপের একটি অঙ্গ সংগঠন হাশেম ফুড থেকেই সেজান জুস তৈরি হয়।
কিন্তু, এইটাকেই আমরা বলতে পারি কর্পোরেট স্বার্থ রক্ষার জন্যে মিডিয়া ম্যানিপুলেসান। মাইর হবে কিন্তু সাউন্ড হবেনা।

প্রথম আলোর এতো গুলো রিপোর্টে, সজীব গ্রুপ এবং সেজান জুসের নাম থাকায় খুব কম মানুষ ই সংযোগটি করতে পারবে। সোশাল মিডিয়া না থাকলে এইটা যে, সেজান জুসের ফ্যাক্টরিতে আগুন তা মোটামুটি এরা লুকিয়েই ফেলতো।

শিশু শ্রমিক কেঁচি গেটে আটকে রেখে হত্যাকারীদের ব্রান্ড সেজান জুসের মালিক সজীব গ্রুপের ব্রান্ড ভ্যালু রক্ষা করার জন্যে প্রথম আলোর এই মিডিয়া মানিপুলেশানের নিন্দা জানায় রাখলাম।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন