লাশের প্রতীক্ষায় স্বজনরা রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি : হত্যার অপরাধে মামলা, এখনও নিখোঁজ ৫৪ জন

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১১, জুলাই, ২০২১, রবিবার
<strong>লাশের প্রতীক্ষায় স্বজনরা রূপগঞ্জ ট্র্যাজেডি : হত্যার অপরাধে মামলা, এখনও নিখোঁজ ৫৪ জন</strong>

বিজয় বাংলা অনলাইন | নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানায় অতিরিক্ত ক্যামিকেলের ব্যবহার ও গেটে তালা না খোলাই কাল হলো ৫২ শ্রমিকের। ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের এ মর্মান্তিক ঘটনায় রূপগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ শোকাহত। বিল্ডিং কোড না মেনে অব্যবস্থাপনায় কারখানা ভবনটি নিমার্ণ করা হয়েছে বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। দুর্ঘটনার পর প্রায় ৪০ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে এখনো লাশের প্রতীক্ষায় নিহতদের স্বজনরা। এখনও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছে ৫৪ জন। নিখোঁজদের খোঁজে স্বজনরা বিধ্বস্ত কারখানা ও বিভিন্ন হাসপাতালে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এদিকে, শনিবার বিকেল ৫টায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হয়। ভবনটির আশপাশে বাতাসে শুধুই পোড়া গন্ধ।

এ ঘটনায় হত্যা ও হত্যার উদ্দেশ্যে সামন্য ও গুরুতর জখমের অপরাধে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নাজিম উদ্দিন মজুমদার বাদী হয়ে আট জনকে আসামী করে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় হাসেম ফুডের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমসহ আটজনকে আসামী করা হয়েছে। গতকাল শনিবার তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা হলেন, হাশেম ফুডের চেয়ারম্যান লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার বালুচরা এলাকার মরহুম ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম (৭০)। আবুল হাশেমের চার ছেলে হাসিব বিন হাসেম (৩৯), তারেক ইব্রাহিম (৩৫), তাওসিফ ইব্রাহিম (৩৩), তানজিব ইব্রাহিম (২১), বর্তমান ঠিকানা গুলশান-১, রোড নং-১৩, হাউজ নং-৪, থানা গুলশান ডিএমপি ঢাকা, হাসেম ফুডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্রাক্ষ¥ণবাড়িয়া জেলার কোট্টা থানার আতাউর রহমানের ছেলে শাহান শাহ আজাদ (৪৩), দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার হরিপুর এলাকার মরহুম মনসূর আলীর ছেলে ডিজিএম মামুনুর রশীদ (৫৪), বরগুনা জেলার আমতলী থানার পশ্চিম চুনাখালী গ্রামের আবু হানিফ খানের ছেলে অ্যাডমিন প্রধান সালাউদ্দিন (৩০)। গ্রেফতারকৃতদেরকে গতকাল শনিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট ফাহমিদা খানমের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, সকালেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা পুলিশ হাসেম ফুডের চেয়ারম্যান আবুল হাসেমসহ আটজনকে গ্রেফতার করে।

এদিকে, দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সে সময় তিনি বলেন, হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানার আগুনের ঘটনায় তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিচার হবে। গাফিলতি বিন্দুমাত্র থাকলেও কারো ছাড় নেই। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) জিল্লুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পৃথক প্রেস ব্রিফিং করেন। এদিকে, আগুন নেভানো শেষে ভবনটির অনেকাংশ স্থানে ফাটল ধরেছে আবার অনেক অংশ ধ্বসে পড়েছে। এতে করে ভবনটিকে ঝুকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করে ফায়ার সার্ভিস। অপর দিকে, এ ঘটনায় ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামিম বেপারীকে প্রধান করে ৫ সদস্যর একটি, ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক জুলফিকার রহমানকে প্রধান করে ৭ সদস্য ও কারখানার পরিদর্শককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

অগ্নিকান্ডের ঘটনার প্রথম দিনে নারীসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর গত শুক্রবার বিকেলে ভবনের চারতলা থেকে ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা দাড়ালো ৫২ জনে। উদ্ধার হওয়া লাশ গুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। চেনার কোন উপায় নেই। স্বজনরা চাইলেও লাশ দেখে শনাক্ত করতে পারবেন না। ডিএনএ টেস্ট ছাড়া লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হবেনা। তবে তিন সপ্তাহ পরে লাশ শনাক্ত হবে জানায় ফরেনসিক কর্তৃপক্ষ। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বজনরা সেখানে নমুনা দিচ্ছেন।

এদিকে, এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের কোন খোঁজ মেলেনি। নিহতের স্বজনরা দিক-বিদিক হয়ে কারখানা ও বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজাখুজি করছেন। নিখোঁজরা হলেন, মহিউদ্দিন পিতা- গোলাম সাং ভোলা চরফ্যাশন, শামীম পিতা- ফকরুল সাং- ভোলা চরফ্যাশন, হাফেজা পিতা- ইসমাইল সাং- ভোলা, ফিরোজা বেগম পিতা -হাকিম আলী সাং- নারায়ণগঞ্জ, নাইম পিতা-তাহের উদ্দিন সাং করিমগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জ, শাহিদা পিতা- স্বপন সাং- কিশোরগঞ্জ, কম্পা বর্মণ পিতা- পর্বা বর্মণ সাং মৌলভীবাজার, সিলেট, রাকিব পিতা তাইজ উদ্দিন, খাদিজা পিতা কাইয়ুম, কিশোরগঞ্জ গ্রাম শেওরা, শান্তামনি পিতা জাকির হোসেন সাং নেত্রকোনা, অমৃতা বেগম পিতা স্বামী সেলিম, নবীগঞ্জ. আকিমা পিতা কাইয়ুম সাং কিশোরগঞ্জ, হিমা পিতা কবির হোসেন সাং খালিয়াঝুড়ি নেত্রকোনা, স্বপন পিতা মনকার রংপুর, শাহানা পিতা স্বামী মাহাতাব উদ্দিন, সাং কিশোরগঞ্জ জালিয়াপাড়া, আমেনা স্বামী রাজীব সাং গোলাকান্দাইল খালপাড়া, রূপগঞ্জ, মিনা খাতুন পিতা আব্দুর রশিদ, কিশোরগঞ্জ, ফাতেমা আক্তার, পিতা সূজন সাং কিশোরগঞ্জ, পারভেজ পিতা আহসান উল্লাহ মিজী, সাং হাইমচর চাঁদপুর, মাহবুব সেকশন ম্যানেজার পিতা গকুল সাং তেতুলিয়া বাঘা রাজশাহী, রিপন মিয়া- পিতা সেলিম মিয়া সাং গাজীপুর, নোমান মিয়া পিতা মান্নান মিয়া, সাং ভোলা চরফ্যাশন, নাজমা বেগম স্বামী আফজাল স্বামী আফজাল হোসেন সাং রূপগঞ্জ, মোহাম্মদ আলী পিতা শাহাদাত খান সাং হাটখালী, হুসাইন পিতা ফজলু সাং চরফ্যাশন ভোলা, জিহাদ মোঃ শওকত সাং জামালপুর, সেলিনা মো সেলিম সাং মিঠামইন কিশোরগঞ্জ, ফিরোজা মেয়ে সুমাইয়া সাং ভুলতা, রিমা স্বামী জসিম উদ্দিন সাং রূপগঞ্জ রাকিব পিতা কবির সাং চরফ্যাশন, ভোলা, ফারজানা পিতা : সুরুজ আলী, নাজমুল, পিতা চাঁনমিয়া সাং কিশোরগঞ্জ, তাছলিমা পিতা বাচ্চু মিয়া সাং কিশোরগঞ্জ, রাকিব সাং চরফ্যাশন ভোলা, আকাশ পিতা বাহার সাং নোয়াখালি, রাশেদ পিতা আবুল কাশেম সাং নোয়াখালি, বাদশা পিতা এনায়েত সাং ফরিদপুর, ইউসূফ, সাকিল, জাহানারা, রাহিমা, নূসরাত জাহান টুকটুকি, রাবেয়া, মাহমুদা, তাকিয়া আক্তার, ইসরাত জাহান, শাহানা, সাজ্জাদ হোসেন সজীব, লাবন্য আক্তার, করিমা, সুপান, আসিফ। সকলেই উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকা ও নতুন বাজার এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থেকে ওই কারখানায় কাজ করতো।

সুত্র: ইনকিলাব

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 170
    Shares