কর্পোরেট-স্পন্সরড ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা দেখা কেন হারাম হওয়া উচিত!

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৩, জুলাই, ২০২১, মঙ্গলবার
<strong>কর্পোরেট-স্পন্সরড ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা দেখা কেন হারাম হওয়া উচিত!</strong>

তারেকুল ইসলামঃ স্টেডিয়ামে টিকেট কেটে কিংবা ঘরে বসে কর্পোরেট পুঁজিবাদী খেলা দেখাটা কি নিছক বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?

না। তা নয়।

বিশেষত মুসলমানদের জন্য কেন এটি গুরুতর সমস্যাজনক, তা নিচে ব্যাখ্যা করেছি। তবে বলে রাখি, নিছক বিনোদনের জন্য ক্রিকেট, ভলিবল বা ফুটবল খেলাতে কোনো সমস্যা নেই, যদি তাতে কোনো ধরনের জুয়া, ম্যাচ ফিক্সিং, চিয়ারলিডারদের অশ্লীল নাচানাচি ও খেলোয়াড়দের সতর লঙ্ঘনের ব্যাপার না ঘটে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্পোরেট-স্পন্সরড ফুটবল ও ক্রিকেট ম্যাচগুলো দেখা জায়েজ হতে পারে না। কারণ, এই চরম কর্পোরেট যুগে মানুষের বিনোদনের বিষয়গুলোও পুঁজিবাদী স্বার্থ ও এলকোহল পানীয়’র প্রচার-প্রসারের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
বিভিন্ন এলকোহল পানীয় প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলো এসব আন্তর্জাতিক খেলাধুলাতে স্পন্সর করে থাকেই।

বিশ্বের অন্যতম একটি এলকোহল পানীয় তৈরিকারক কোম্পানি (Diageo) কোপা আমেরিকা ফুটবল আয়োজনের স্পন্সরে আগ থেকেই আছে। যদিও কোপা আমেরিকার সংগঠন এবারের ফুটবল আয়োজনকে করোনায় বিপর্যস্ত ব্রাজিলে স্থানান্তর করায় খেলোয়াড়রা এর সমালোচনা করেছিল; যেকারণে এলকোহল কোম্পানি ডিয়াজিও-সহ আরো কয়েকটি স্পন্সর কোম্পানি সদ্যসমাপ্ত কোপা আমেরিকার আয়োজনে তাদের চুক্তিবদ্ধ স্পন্সর প্রত্যাহার করে নেয় (১০ জুন ২০২১, রয়টার্স)।

এমনকি বিগত ২০১৮ সালের ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের অফিসিয়াল স্পন্সর লিস্টের মধ্যে টপে ছিল একটি এলকোহল পানীয় প্রস্তুতকারক কোম্পানি: Budwiser।

অথচ ইসলামে এলকোহল মিশ্রিত যেকোনো কিছুই খাওয়া কঠোরভাবে হারাম এবং এর প্রচার-প্রসারও হারাম। কিন্তু কর্পোরেট মিডিয়ার প্রচারণার ফাঁদে পড়ে এদেশের মুসলিম যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরী এমনকি বুড়োরাও ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা—এ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে সবসময় উল্লম্ফন, মারামারি ও কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার আয়োজনগুলোতে বেভারেজ কোম্পানিগুলোর স্পন্সরশিপ কতটা জড়িত তা বুঝা যায় রোনালদো’র সাম্প্রতিক একটা ঘটনায়। খেলা-বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তার সামনে থাকা কোকা-কোলার দুটো বোতল সরিয়ে তিনি সফট ড্রিংকসের চেয়েও পানি খাওয়াটাকে স্বাস্থ্যের জন্য অধিকতর উত্তম বলে একটা বার্তা দিয়েছেন। এর ফলে কোকা-কোলা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের অফিসিয়াল স্পন্সর লিস্টে Bira91 নামে একটি এলকোহল প্রস্তুতকারক কোম্পানিও আছে। এমনকি খেলোয়াড়দের জার্সিতে প্রায়ই কোনো-না-কোনো এলকোহল পণ্যের ব্র্যান্ড-লোগো থাকেই।

অনেকেই হয়ত জানেন, দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় ক্রিকেট দলের মুসলিম খেলোয়াড় হাশিম আমলাকে জরিমানা দিতে হয়, এলকোহল প্রস্তুতকারক কোম্পানির লোগোসম্বলিত জার্সি না পরার কারণে। তাই খেলাকালীন তার জার্সিতে কোনো এলকোহল পণ্যের ব্র্যান্ড-লোগো থাকেনা। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান উসমান খাজা ও রশিদ খানসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিসিং মুসলিম ক্রিকেটার তাদের জার্সিতে কোনো এলকোহল ব্রান্ডের লোগো এনডোর্স করেন না।

এখানে উল্লেখ্য যে, বিশেষত অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল মদ বা ওয়াইন (champagne) ছিটিয়ে তাদের বিজয় উদযাপন করে থাকে এবং তাদের জার্সিতে এলকোহল কোম্পানির বিজ্ঞাপনী লোগো সবসময় থাকেই। ফলে এ ধরনের এলকোহল কোম্পানির স্পন্সর ও বিজ্ঞাপনসংশ্লিষ্ট খেলাধুলা উপভোগ করা মুসলমানদের জন্য কখনোই জায়েজ হতে পারে না। অথচ ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া যে অনেকের ফেভারিট, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিশ্বব্যাপী মানুষের বিনোদনের আয়োজনগুলো আজকে কর্পোরেট পুঁজিবাদী স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সেইসাথে হারাম এলকোহল পানীয় প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর অর্থায়ন ও বিজ্ঞাপণ জড়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক খেলাধুলার আয়োজনগুলো উপভোগ করাটা বিশেষত মুসলমানদের ঈমানের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। সেজন্য গুনাহ থেকে বাঁচতে মুসলিম কিশোর-কিশোর ও যুবক-যুবতীদের এক্ষেত্রে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 24
    Shares