সত্তরের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সাথীদের আনন্দ প্রকাশের পদ্ধতি অত্যন্ত শিক্ষনীয়

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৪, জুলাই, ২০২১, বুধবার
<Strong>সত্তরের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সাথীদের আনন্দ প্রকাশের পদ্ধতি অত্যন্ত শিক্ষনীয়</Strong>

সৈয়দ মবনু:

বর্তমান ডান, বাম এমনকি ইসলামপন্থীরা চিন্তা করুন, দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনাদের দল বিজয়ী হওয়ার পর দলের প্রধানের বাড়িতে হাজার হাজার মানুষের জামায়েত হয়েছে কিন্তু কোন হৈ চৈ নেই, নেই বিজয় মিছিল, কারো গলায় ফুলের মালাও নেই। নেতা বলে দিয়েছেন শুধু দোয়া হবে, কোরআন তেলাওয়াত হবে, সিজদায়ে শোকর আদায় করা হবে। কেউ অমান্য করলো না, সবাই তাই করলো। চিন্তা করে দেখুন, এই নেতা কত বড় যিনি এত বড় বিজয়কে উত্তেজনাহীনভাবে ধারণ করতে পারেন এবং তাঁর কর্মিরাও নেতার নির্দেশে এত বড় উত্তেজনার দিনে শান্ত হয়ে থাকতে পারে? খোদ আওয়ামীলীগের পক্ষে কি তা এখন আর সম্ভব?

আজকের প্রেক্ষাপটে অনেকের বিশ্বাস হবে না, কিন্তু ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের ওল পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনের পর এমনটি ঘটেছে আওয়ামীলীগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। চিন্তা করুন, সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের ১৫৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ বিজয়ী হয়েছে ১৫৭টি আসনে। সেই সময়ের প্রত্যক্ষদর্শী পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক মুহাম্মদ বদর মুনির লিখেছেন, ‘আওয়ামীলীগ তার প্রতিষ্ঠার ২৩ বছরের মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় সংসদীয় দল হিসাবে উঠে আসে। রাত ১২টার মধ্যে যখন বিজয়ের ব্যাপারটা নিশ্চিত হওয়া যায় তখন রাত ১টায় শেখ মুজিবুর রহমানের বাসায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হলো। হাজার হাজার লোক কোরআন তেলাওয়াতের পর মহান আল্লাহর কাছে সিজদায়ে শোকর আদায় করলেন। ফজরের নামাজের পর সবাইকে চা-বিস্কুট নাস্তা হিসাবে দেওয়া হলো। ঢাকার অবস্থানরত সকল পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও-এর প্রতিনিধি এখানে উপস্থিত ছিলেন। সবাই আশ্চর্য হয়ে বিজয় অনুষ্ঠান দেখছিলেন, যেখানে কোন মদের শিশি ঝাকুনি দিয়ে খুলা হয়নি, হয়নি কোন হৈচৈ। তারা তাদের সেই সাথীদের উপর ইর্ষাম্বিত হচ্ছিলেন যারা পশ্চিম পাকিস্তানে সত্যিকার অর্থে বিজয়ের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করছিলেন।’

এই ঘটনা বদর মুনিরের ‘শেখ মুজিবুর রহমান যেয়ছা ময় জানতাহু’ গ্রন্থ থেকে অনুবাদ করে কথাটা যখন আমি শৈলীর উপদেষ্টা সচিব ও কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের নির্বাহী সদস্য মাহবুব মুহাম্মদের সামনে উপস্থাপন করলাম তখন সে জানতে চাইলো এই কথাটা আমাদের লেখক-সাহিত্যিকরা কেন প্রচারে অনিহা? আওয়ামীলীগ নিজেও তো প্রচার করে না। আমি কি বলবো মাহবুবকে? শুধু বললাম, আমাদের রাজনৈতিক ময়দান থেকে লেখালেখির ময়দান পর্যন্ত সবদিক ডান, বাম এবং ইসলামপন্থী বলয়ে বিভিক্ত হয়ে রয়েছে। ডান এবং বাম কিংবা ইসলামপন্থীরা নিজেদের সংকীর্ণ মনের টানে লুকিয়ে রাখতে চেষ্টা করেন গুরুত্বপূর্ণ অনেক ইতিহাস কিংবা ঘটনা। নিজের মন্দকেও ভালো বলে প্রচার করতে পারেন তারা কিন্তু অন্যের অতি উত্তম কর্মও স্বীকার করতে রাজি নয়। অন্যের কোন কর্ম যদি তাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায় তবে তাকে আর নিজের ছোট মনের কারণে স্বীকারই করতে পারেন না, তা হোক যতই মঙ্গলজনক।

আমাদের দেশের ডান, বাম এবং ইসলামপন্থীদের ময়দানী নেতা-কর্মির মতো বেশিরভাগ লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবিরাও সংকীর্ণতার উর্ধ্বে যেতে পারেননি। যতোদিন যাচ্ছে তারা যেন আরও সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের রাজনৈতিক নেতা-কর্মির মতো লেখক-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবিদেরও দিনদিনে অবণতি ছাড়া আর কোন উন্নতি যেন ঘটছেনা। যেখানে লেখক-বুদ্ধিজীবিরা উন্নত কিছু দিতে পারছেন না সেখানে রাজনৈতিক নেতা-কর্মির উপর আশা করে লাভ কি? জনগণ কি করবে, তারা তো চিন্তার দিকে এই দুই শ্রেণীর বাইরে গিয়ে ভাবতে পারছেন না। ফলে আমাদের অবণতির পরিমান দিনদিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 8
    Shares