সম্পর্ক, সম্প্রীতি, অহিংসা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৪, জুলাই, ২০২১, বুধবার
<strong>সম্পর্ক, সম্প্রীতি, অহিংসা</strong>

আলী আহমদঃ ছোট্ট এই জীবনের প্রায় কুড়ি বছরের বৈচিত্রময় জার্নিতে সুযোগ হয়েছে নিজ পরিবারের বাহিরে আর ১৮ টি পরিবারের সাথে সরাসরি (একজন সাধারণ সদস্যের মত) চলার। পাশাপাশি তিনটি ভিন্ন ধারার মোট ৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সরাসরি শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ হয়েছে। সবমিলিয়ে একটা বিচিত্র জার্নি ও অভিজ্ঞতা বললে বাড়াবাড়ি হবে বলে মনে হয় না। যদিও খুব অল্প থেকে অল্প মানুষের সাথে মিশা হয়েছে।

যাইহোক, ঐ বৈচিত্রময় জার্নির পর্যবেক্ষণে পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক সম্পর্ক, বন্ধুত্বের সম্পর্ক, ভালো বাসার সম্পর্ক ইত্যাদি সম্পর্ক গুলো কে খুব কাছে দেখার সুযোগ হয়েছে এবং বেশ কিছু বিচিত্র অভিজ্ঞতাও হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতার ছোট্ট করে যদি একটা সামারি বলি, তাহলে এরকম হবে:

১. সম্পর্কগুলোতে অবশ্যপালনীয় কাজগুলো অধিকাংশই অপেক্ষিত থাকে এবং ক্ষতিকর বা কম গুরুত্বপূর্ন কাজগুলোই বেশি চর্চা হয়।
২. সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গিয়ে একসময় জঘন্য ভাবে এর বিচ্ছেদ ঘটে এবং সম্পর্কের দুই পাশে থাকা দুজন পরষ্পর কে জঘন্য রকম ঘৃণা করে।
৩. সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সহনশীলতা অধিকাংশই অপেক্ষিত থাকে।

আমার কাছে মনে হয় এই রকম পরিস্থিতি থেকে আমাদের নিজেদের রক্ষার জন্য আমাদের কিছু চিন্তাগত এবং কিছু আচরণগত পরিবর্তন আনা উচিত।

√ সম্পর্কের মাঝে প্রত্যাশা কমিয়ে আনা এবং সম্ভব হলে এটি শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে আসা। স্রষ্টা থেকে সৃষ্টি, মানুষ থেকে মানুষ, বাবা, মা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন, প্রেমিক থেকে প্রেমিকা, ইত্যাদি পৃথিবীর প্রতিটা সম্পর্ক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ , বস্তুগত কিংবা অবস্তুগত Transaction বা লেনদেন দ্বারা আবদ্ধ। এই প্রাকৃতিক লেনদেন ব্যতীত বাড়তি প্রত্যাশা যত কম হবে, ততই সম্পর্কগুলো ভালো থাকবে। যখন প্রত্যাশার পরিমাণ শূণ্য থাকব, তখন ছোট্ট থেকে ছোট্ট কোন প্রাপ্তিও প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হবে। অধিক প্রত্যাশা করে জঘন্য ভাবে সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটানোর চেয়ে শূণ্য প্রত্যাশা নিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা নিশ্চয়ই উদার মানসিকতার পরিচয়।

√ বিশেষ সম্পর্কে ( বিয়ে , বন্ধুত্ব, প্রেম) যাওয়ার আগে উভয় পক্ষের যথেষ্ট সময় নেয়া জরুরি। আমার যেমন অপর মানুষটি কে অবজারভেশন করতে হবে তেমনি অপর মানুষটি কেও আমাকে অবজারভেশন করার যথেষ্ট সুযোগ দেয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব মনে করা উচিত। অবজারভেশন রেজাল্ট – (মাইনাস) আসলে কিংবা কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলে সামাজিকতা বজায় রেখে পরষ্পর সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখা উচিত। আর যদি এটি মানসিক ভাবে সমস্যা সৃষ্টি করে কিংবা দৈনন্দিন কাজ থেকে বেশ কিছু মনযোগ নিয়মিত অপচয় কেড়ে নিয়ে যায়, তাহলে তাকে কষ্ট না দিয়ে ধীরে ধীরে এখান থেকে বের হয়ে যাওয়া জরুরি।

√ মানুষ আল্লাহ তায়ালার এক অপূর্ব সৃষ্টি। সৃষ্টিগত ভাবেই প্রতিটি মানুষ আলাদা। চিন্তায়, মননে , বিশ্বাসে, আচরণে মানুষের মাঝে ভিন্নতা থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সামাজিক ও অন্যান্য বিশেষ সম্পর্কের স্বার্থে আমাদের যথেষ্ট সহনশীল ও পরমত সহিষ্ণু হওয়াটা খুব জরুরি।

√ বিশেষ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামগ্রিক জীবন বোধ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান আচরণে ৯০° এর চেয়ে বেশি পার্থক্য থাকলে সেই সম্পর্কে না গিয়ে নিজের মতো করে চলাটা বেশ ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু আবেগপ্রবণ হয়ে সামনে এগুলে একটা সময় পর পৃথিবী নতুন আরেকটি জঘন্য সম্পর্ক বিচ্ছেদ গল্পের সাক্ষী হবে। আরেকটি ঘৃণার রাজ্যের জন্ম হবে। এরচেয়ে স্বাভাবিক সামাজিকতা বজায় রেখে চললে জীবনে চলার পথে হঠাৎ সাক্ষাৎ হলে অন্তত একটা মুচকি হাসির লেনদেন হবে। এই মুচকি হাসিটার মূল্য একটা জঘন্য সম্পর্ক বিচ্ছেদ গল্পের চেয়ে অনেক অনেক এবং অনেক বেশি।

√ “কেউ আমার ভালবাসার মূল্য না দেয়ায় অর্থ সবসময় এটা নয় যে , সে অন্যকে ভালবাসে । বরং এটাও হতে পারে যে , আমার ভালবাসা তারজন্য পর্যাপ্ত নয়” এই কথাটি মনে রাখলে অধিকাংশ সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার শেষ প্রান্ত থেকেও ফিরে আসতে পারে।

√ আমাকে ভালবাসার অর্থ এটা নয় যে, তার সমস্ত ভালবাসার প্রাপক কেবল আমি। বরং আমাকে ভালবাসার পাশাপাশি তার অন্যান্য সম্পর্কগুলোর প্রত্যেককেই তাদের প্রাপ্য ভালবাসা দেয়ার সুযোগ দেয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব ও উদার মানসিকতার পরিচয়।

ছোট্ট করে অগোছালো কিছু কথা বলার চেষ্টা করলাম। যদি এতে কারো ছোট্ট থেকে ছোট্ট কোন উপকার হয়, তাহলে কৃতজ্ঞ হব। ধন্যবাদ।

লেখকঃ আলী আহমদ।

শিক্ষার্থী: সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
১৩ জুলাই, ২০২১

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 76
    Shares