৯ই জিলহজ্জ্ব তারিখের রোজা কোন দেশের হিসেবে রাখবে

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৯, জুলাই, ২০২১, সোমবার
<strong>৯ই জিলহজ্জ্ব তারিখের রোজা কোন দেশের হিসেবে রাখবে</strong>

সংকলনে ও রচনায়, হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আনসারুল ইসলাম সিদ্দিকী | ✍️✍️✍️জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখের রোজা কোন দেশের হিসেবে রাখবে:- আলহামদুলিল্লাহ আসসালাতু ও য়াসসালামু আলা মান লা নাবিয়্যা বায়াদা,কালে কালে যুগে যুগে প্রমাণিত ইত্তেফাকি ফতোয়া নিয়ে আজকে লিখা লাগছে যা মুসলিম উম্মাহর জন্য খুবই আপত্তিজনক, যাহোক যামানার ফিৎনা থেকে বাঁচতে হলে কুরআন সুন্নাহ আলোকে সালফে সালিহীন অনুসৃত রাস্তা ছাড়া বিকল্প নেই। তাই নিম্নে তা আলোচনা করা হলো:-

✍️✍️👉আরাফার দিনে রোজা:-

عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، رَجُلٌ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَيْفَ تَصُومُ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ – رضى الله عنه – غَضَبَهُ قَالَ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ غَضَبِ اللَّهِ وَغَضَبِ رَسُولِهِ ‏.‏ فَجَعَلَ عُمَرُ – رضى الله عنه – يُرَدِّدُ هَذَا الْكَلاَمَ حَتَّى سَكَنَ غَضَبُهُ فَقَالَ عُمَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الدَّهْرَ كُلَّهُ قَالَ ‏”‏ لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ – أَوْ قَالَ – لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ ‏”‏ وَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا قَالَ ‏”‏ ذَاكَ صَوْمُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ قَالَ ‏”‏ وَدِدْتُ أَنِّي طُوِّقْتُ ذَلِكَ ‏”‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ ثَلاَثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ ‏”‏ ‏.

আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:

এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করল, আপনি কিভাবে সওম পালন করেন? তার এ কথায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসন্তুষ্ট হলেন। ‘উমার (রাঃ) তাঁর অসন্তোষ লক্ষ্য করে বললেন, “আমরা আল্লাহ্‌র উপর (আমাদের) প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামের উপর (আমাদের) দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর আমাদের নবী হিসেবে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে তাঁর ও তাঁর রসূলের অসন্তোষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি”। উমার (রাঃ) কথাটি বার বার আওড়াতে থাকলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসন্তোষের ভাব দূরীভূত হ’ল। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! যে ব্যক্তি সারা বছর সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, সে সওম পালন করেনি এবং ছেড়েও দেয়নি। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, যে ব্যক্তি একদিন পর একদিন সওম পালন করে তার অবস্থা কিরূপ? তিনি বললেন, এটা দাঊদ (আঃ)-এর সওম। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, যে একদিন সওম পালন করে ও একদিন করে না, তার অবস্থা কিরূপ? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি আশা করি যে, আমার এতটা শক্তি হোক। তিনি পুনরায় বললেন, প্রতি মাসে তিনদিন সওম পালন করা এবং রমাযান মাসের সওম এক রমাযান থেকে পরবর্তী রমাযান পর্যন্ত সারা বছর সওম পালনের সমান। আর ‘আরাফাহ্ দিবসের সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে। আর ‘আশুরার সওম সম্পর্কে আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহসমূহের কাফ্‌ফারাহ্‌ হয়ে যাবে। (ই.ফা. ২৬১৩ )

حَفْصَةَ، قَالَتْ: ” أَرْبَعٌ لَمْ يَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: صِيَامَ عَاشُورَاءَ، وَالْعَشْرَ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْغَدَاةِ ”

হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ:
তিনি বলেন, চারটি আমল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কখনো পরিত্যাগ করতেন না। আশুরার দিনের সাওম (রোযা), যিলহজ্জ মাসের নয় দিনের সাওম (রোযা), প্রত্যেক মাসে তিন দিনের সাওম (রোযা) এবং ফজরের দুরাকাআত সুন্নাত।

সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ২৪১৬

✍️✍️✍️ জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখের রোজা কোন দেশের হিসেবে রাখবে: মুফতি তাকি উসমানী(হাফিঃ) উনার ফাতোয়া নিম্নে দেওয়া হলো:-

জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখের রোজা কোন দেশের হিসেবে রাখবে, কখন রাখবে, এ বিষয়ক মতানৈক্য দীর্ঘদিনের। কেউ কেউ সৌদি আরবে হাজীদের আরাফার ময়দানে অবস্থানের দিন রোজা রাখার কথা বলেন।

বিপরীতে মুহাক্কিক উলামায়ে কিরাম যে দেশে যিনি আছেন তাদের চাঁদের হিসাবে ৯ তারিখে রোযা রাখার কথা বলেন। কেননা রাসুল সা. ইরশাদ করেন صوموا لرؤيته وافطروا لرؤيته তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখেই রোযা রাখা বন্ধ কর। উক্ত হাদীসে রোযা পালন করা কে চাঁদের সাথে যুক্ত করা হয়েছে।

তাছাড়া হাজিদের আরাফায় উকুফের দিন সবার জন্য রোজার বিধান দেওয়া হলে, যে দেশে সৌদি আরবের একদিন পূর্বে চাঁদ উঠে তারা কিভাবে রোযা রাখবে?

হাজিদের আরাফায় অবস্থানের দিন তো তাদের হিসাবে ঈদের দিন। তাহলে তারা কি ঈদের দিন রোযা রাখবে? তদুপরি আহ্নিক গতির তারতম্যের কারনে হাজীদের আরাফায় অবস্থানের সময়টা কোথাওবা রাত। তাহলে সে সময়টা কারো হিসাবে রাত হলে তবুও তারা কি রাতেই রোজা রাখবেন?

তাছাড়া উকুফে আরাফার ফজীলত তো হাজীদের জন্য। তাদের জন্য সিয়াম পালন মাকরুহ্।যা রা হাজী নন তারা সিয়ামের মাধ্যমে সে বরকত লাভে সচেষ্ট হবে। আর নামায রোজা তো প্রত্যেকের নিজ এলাকার সাথে সম্পৃক্ত ইবাদাত।

যেমন তাকবীরে তাশরীক সবাই নিজ দেশের সময়ানুযায়ী নয় জিলহজ্জ ফজর থেকে শুরু করে। তেমনি সিয়াম ও নিজ অঞ্চলের নয় তারিখেই পালন করবে।

#সূত্র: দারুল উলুম করাচির ফেসবুক পেজ।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে সহীহ বুঝ দান করুন এবং আমল করার তৌফিক দান করুন আমীন বিহুরমাতি সায়্যিদিল মুরসালিন।
সংকলনে ও রচনায়, হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ আনসারুল ইসলাম সিদ্দিকী
খতিব ,আল-আকসা জামে মসজিদ কুদাব ,গাজীপুর‌ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা ,বাংলাদেশের।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 10
    Shares