হবিগঞ্জ বানিয়াচং থানা পুলিশের অভিযানে এক ডাকাত ও দুই চুর গ্রেফতার।।মোবাইল ও টাকা উদ্ধার।

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ২৪, জুলাই, ২০২১, শনিবার
<strong>হবিগঞ্জ বানিয়াচং থানা পুলিশের অভিযানে এক ডাকাত ও দুই চুর গ্রেফতার।।মোবাইল ও টাকা উদ্ধার।</strong>

আকিকুর রহমান (হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি : হবিগঞ্জ বানিয়াচং থানা পুলিশের পৃথক পৃথক অভিযানে ডাকাতি ও চুরির মামলার এক ডাকাত ও দুই চুরকে টাকা ও মালামালসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।উভয় চুর-ডাকাতকে গ্রেফতার করার সময় ডাকাতির ঘটনার লুন্ঠিত মালামালের মধ্যে দুটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধারসহ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়া দুই চুরকে গ্রেফতার করার সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪৯,৭০০শত টাকা, চুরি করার অন্যান্য আলামত ও তাদের মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার করা হয়।
পরে এসব আলামত জব্দ করে তাদেরকে বিঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে।
উভয় দুটি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার গ্রেফতারকৃত ডাকাত ও চুর বিঞ্জ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে।
পুলিশ সূত্রে জানাযায়,হবিগঞ্জে নবাগত পুলিশ সুপার এসএম মুরাদ আলী যোগদান করার পর পরই বানিয়াচং থানাসহ জেলার সবকটি থানাকে চুর,ডাকাত,মাদক ব্যাবসায়ীসহ সকল অপরাধীদের গ্রেফতার ও বিভিন্ন অপরাধে মামলা হওয়া পলাতক আসামীসহ অপরাধীদের গ্রেফতার করে এসব নির্মূল করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের।
এছাড়াও তিনি হবিগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ জেলার সাংবাদিকদের নিয়ে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে পরিচিতি সভা করেন।
এবং এসব নির্মূলে মিডিয়ারও সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন।
হবিগঞ্জ জেলায় অপরাধের মধ্যে চুরি,ডাকাতি,ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে এবং বিভিন্ন অপরাধের পুরাতন মামলার পলাতক(আসামী) অপরাধীদেরকে গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এমন নির্দেশনার পর পরই শুরু হয় গ্রেফতার অভিযান।
এরই অংশ হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(বানিয়াচং সার্কেল)পলাশ রঞ্জন দে ও বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)এমরান হুসেনের নেতৃত্বে অপরাধ নির্মূলে ও বিভিন্ন পুরাতন মামলার পলাতক আসামীসহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়।এমনকি প্রতিনিয়ত গ্রেফতার হচ্ছে অপরাধীরা।
এরই অংশ বিশেষ গত ২২জুলাই (বৃহস্পতিবার)রাত-দিনে অভিযান চালিয়ে ডাকাতি ও চুরির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাগন বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল চৌকস পুলিশবাহিনী নিয়ে বিভিন্ন স্হানে পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এক ডাকাত ও দুই চুর’কে গ্রেফতার করেন।
এসময় তাদের কাছ থেকে লুন্ঠিত হওয়া ডাকাতির মালামালের মধ্যে দুটি মোবাইল ফোন ও চুরি হওয়া মালামাল বিক্রি করা কিছু টাকাও উদ্ধার করা হয়।
পরে এসব আলামত জব্দ করে থানা পুলিশ।
এবং গ্রেফতারকৃতদের হবিগঞ্জ বিঞ্জ আদালতে হাজীর করে বানিয়াচং থানা পুলিশ।
আদালতে তারা ডাকাতি ও চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তি প্রদান করে।পরে তাদেরকে বিঞ্জ আদালত হবিগঞ্জ কারাগারে প্রেরন করেন।
গ্রেফতার হওয়া ডাকাত ও মোবাইল উদ্ধারের বিষয়টি সূত্র থেকে জানাযায়,চলতি বছরের ২৪ফেব্রুয়ারি (বুধবার)রাতে বানিয়াচং নবীগঞ্জ সড়কের মধ্যেবর্তী রাস্তার হাওর এলাকায় দশটার দিকে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাতদল রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে চলাচলরত কয়েকটি গাড়ি আটকিয়ে ডাকাতি সংঘটিত করে।এসময় ডাকাতদল যাত্রীদেরকে মারধোরসহ নগদ টাকা পয়সা,মোবাইল ফোনসেটসহ মালামাল নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ডাকাতির কবলে পড়া তাউস মিয়া বাদী হয়ে এবং ডাকাতের কবলে পড়া অন্যান্য কয়েকজনকে সাক্ষী করে থানায় একটি ডাকাতি মামলা হয়।
বর্তমানে এই মামলার তদন্তবারের দায়িত্ব দেওয়া হয় নবীগঞ্জ থানা থেকে বদলী হয়ে আসা বানিয়াচং থানায় যোগদানকারী এসআই শামছুল ইসলামকে।যিনি থানার সেকেন্ড অফিসার হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন।
মামলার আইও শামছুল ইসলাম বিভিন্ন সৌর্স মারফতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একদল চৌকস পুলিশবাহিনী নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কালিদাশটেকা গ্রামে অভিযান চালিয়ে এক ডাকাতকে গ্রেফতার করেন।
এসময় গ্রেফতারকৃত ডাকাতের কাছ থেকে ডাকাতি মামলার বাদী তাউস মিয়ার মোবাইল ও ঐ মামলার এক সাক্ষী নজরুল মিয়ার মোবাইলসহ দুটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।গ্রেফতারকৃত ডাকাত হলো,বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩নং দক্ষিণ পূর্ব ইউনিয়নের কালিদাশটেকা গ্রামের ইসমাইল মিয়ার পুত্র ওয়াহিদ(২১)ওরফে ওয়াদুদ।
অন্যদিকে,অপর অভিযানে গ্রেফতারকৃত দু’চোর ও টাকা উদ্ধারের ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের অন্য একটি সূত্রে জানাযায়,বানিয়াচং উপজেলার ১৩নং মন্দরী ইউপির আগুয়া গ্রামের মোতাহের মিয়ার ঘোয়াল ঘর থেকে চলতি মাসের ৬জুলাই(মঙ্গলবার) রাতে দুটি গাভী(গরু)চুরি করে নিয়ে যায় চুরেরদল।
এ ঘটনায় মোতাহের মিয়া অঞ্জাতনামা আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।এই মামলার তদন্তবারের দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই সবুজ কুমার নাইডুকে।মামলার ১৬দিন পর বিভিন্ন সোর্স মারফতে এই চুরির ঘটনার জড়িতদের খোঁজ পান মামলার আইও নাইডু।
এবং তিনি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান জানতে পেরে সবুজ কুমার নাইডুর নেতৃত্বে এএসআই তোফাসহ একদল পুলিশ নিয়ে আজমিরীগঞ্জের শিবপাশা গ্রাম ও মন্দরীর আগুয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুই চুরকে গ্রেফতার করেন।
এসময় গ্রেফতারকৃত চুরদের কাছ থেকে গাভী বিক্রির কিছু (৪৯,৭৭০শত) টাকাসহ চুরির আলামত ও তাদের মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃত চুর হলো,আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের ইউনুস মিয়ার পুত্র জুয়েল মিয়া(৩০) ও বানিয়াচং উপজেলার ১৩নং মন্দরী ইউপি’র আগুয়া গ্রামের রহমত আলীর পুত্র জজ মিয়া(২৭)।পরে গ্রেফতারকৃতরা চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকারোক্তি প্রদান করে।
উল্লেখ্য,ইতিপূর্বে ২৪ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে নবীগঞ্জ বানিয়াচং সড়কের কাগাপাশা গ্রামের মধ্যেবর্তী রাস্তায় একদল মুখোশধারী ডাকাত ব্যারিকেড দিয়ে উভয় দিকে চলাচলরত মোটরসাইকেল, পিকাপ,লাইটেস, সিএনজি,শিশুক গাড়িসহ মোট ৭টি গাড়ির যাত্রীদের মারধোর করে নগদ টাকা,পয়সা মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২০লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
এমনকি একেকটি গাড়ি আটকিয়ে তাদের কাছ থেকে সবকিছু নিয়ে হাওরের মধ্যে বেধে রেখে একের পর এক গাড়ি আটক করে এই গন-ডাকাতি সংঘটিত করেছিলো ডাকাতদল।
এই ডাকাতির দুই ঘন্টা পর রাত ১২টার দিকে বানিয়াচং কাদিরগন্জ সড়কে মোটরসাইকেল আটকিয়ে নগদ টাকাও মোবাইলফোন ডাকাতি সংঘটিত হয়।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)এমরান হুসেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত ডাকাত ও চুরদের কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
যাহা তদন্তের স্বার্থে এখন বলা যাচ্ছেনা।
তবে এসব চুরি ডাকাতি,মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় মামলার পলাতক আসামীসহ অনেক অপরাধীকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।তবে এসব অপরাধের পলাতক থাকা তালিকা ভুক্ত আসামী ও বিভিন্ন অপরাধের অপরাধীকে গ্রেফতার করতে তাদের চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন