জার্মানদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আস্থা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১০, আগস্ট, ২০২১, মঙ্গলবার
জার্মানদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় আস্থা

বিজয়বাংলা; হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতি অগাধ বিশ্বাস মার্টিনা ফ্লাইশমানের৷ যে কোন অসুখ বিসুখই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের কাছে যান তিনি৷ ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়েই তিনি প্রথম হোমিওপ্যাথির সংস্পর্শে আসেন ৷
অনেক জার্মানই এখন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার দিকে ঝুঁকছেন।

মার্টিনা ফ্লাইশমানের ছেলে হাইপারঅ্যাকটিভ রোগে ভুগছিল, অর্থাৎ স্থির থাকতে পারতো না সে৷ ডাক্তার তাকে মানসিক ব্যাধির ওষুধ সাইকোট্রপিক’এর প্রেসক্রিপশন দেন৷ এতে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন মার্টিনা৷ তখন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার কথাটা তাঁর মাথায় আসে৷ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমার ছেলের রোগের লক্ষণগুলো দেখে চিন্তিত হয়ে উঠি আমরা৷ সাইকোট্রপিক ওষুধ ‘রিটাল’ শুধু রোগের লক্ষণগুলি চেপে রাখতে পারে, সারাতে পারে না৷ হোমিওপ্যাথি তাকে ভাল করে দিয়েছে৷”

হোমিওপ্যাথির ডাঃ কারিন বান্ডেলিন মার্টিনার ছেলের চিকিৎসা করেছেন৷ মার্টিনাও এখন অসুখ বিসুখে ডাঃ বান্ডেলিনের কাছেই যান৷ হোমিওপ্যাথির খুদে বড়িগুলো শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতাকে সক্রিয় করে তুলতে পারে৷ সুস্থ কোনো ব্যক্তি কোনো রোগের ওষুধ খেলে সেই রোগের লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে তার শরীরে৷ যেমন মার্টিনা গলাব্যথার জন্য যে ওষুধ খেলেন, তা সুস্থ কেউ খেলে তার গলাব্যথা দেখা দিতে পারে৷ স্থুল বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুরোপুরি প্রমাণিত না হলেও হোমিওপ্যাথির প্রতি আস্থাশীল হয়ে উঠছেন জার্মানির অনেকে৷ এ প্রসঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডাঃ কারিন বান্ডেলিন বলেন, ‘‘আমি যখন প্রথমে এই চিকিৎসা শুরু করি, তখন আমার কোনো রোগী ওষুধ কিনতে গেলে দোকানদার বলতো ‘আমি যদি আপনার কাছে ওষুধ বিক্রি করি, তাহলে আপনি তা খেতেও পারেন বা ফেলেও দিতে পারেন৷ একই কাজ হবে৷’ আমার মনে হয় না, আজ সহজে কেউ এই কথা বলবে৷ হোমিওপ্যাথি মেডিসিন রোগ সারাতে পারে বলেই আড়াইশো বৎসর ধরে ঠিকে আছে।

অ্যালোপ্যাথির চিকিৎসকরা হোমিওপ্যাথিকে সন্দেহের চোখে দেখে।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ও ওষুধপত্র সম্পর্কে এখন প্রচুর বইপত্র বাজারে পাওয়া যাচ্ছে৷ ৫৭ শতাংশ জার্মান হোমিওপ্যাথিতে বিশ্বাস করেন৷ পানি বা স্পিরিট মিশিয়ে মিশিয়ে অত্যন্ত লঘু করে ফেলা হয় ওষুধের উপাদানগুলো, যাতে একদিকে এগুলোর বিষ কমে যায়, অন্যদিকে কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়৷ এটাই মনে করা হয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাশাস্ত্রে৷ অ্যালোপ্যাথির চিকিৎসকরা কিন্তু এই বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখেন৷ কিন্তু ডোরিস রোডের মত রোগীদের পুরোপুরি আস্থা রয়েছে হোমিওপ্যাথিতে৷ ঘাড় ব্যথা হলে ডোরিস তাই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসারই দ্বারস্থ হন৷ তাঁর ছেলের হুপিং কাশিতেও হোমিওপ্যাথির খুদে বড়ি দিয়েই চিকিৎসা করিয়েছেন তিনি৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘এতে আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমার সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল৷ যদিও একজন বন্ধুস্থানীয় অ্যালোপ্যাথিক ডাক্তার আমাদের বলেছিলেন, ছেলের জীবন নিয়ে আমর ছিনিমিনি খেলছি৷”

সব রোগ ভাল করতে পারে না হোমিওপ্যাথি।

সব কিছু অবশ্য হোমিওপ্যাথি ভাল করতে পারে না৷ যেমন ক্যান্সার৷ এই ব্যাধিতে প্রচলিত ওষুধেরই প্রয়োজন৷ তবে পাশাপাশি হোমিওপ্যাথিও চলতে পারে৷ ডোরিস রোডেও তাঁর ছেলের ফুসফুসের সংক্রমণে অ্যালোপ্যাথির দ্বারস্থ হয়েছিলেন৷ এ প্রসঙ্গে ডোরিস রোডে বলেন, ‘‘হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় অসুখটা ভাল হচ্ছিল না, অগত্যা অ্যান্টিবায়োটিকের সাহায্যই নিতে হল৷”

মার্টিনা ফ্লাইশমানের অবশ্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত ভাল অভিজ্ঞতাই হয়েছে৷ খুদে বড়িগুলোর ওপর প্রবল আস্থা রয়েছে তাঁর৷ মার্টিনা বলেন, ‘‘হোমিওপ্যাথি ছাড়া আমি আজকের অবস্থায় আসতে পারতাম না৷ এক কথায় আমি এখন খুব ভাল আছি৷”

উল্লেখ্য, হোমিওপ্যাথির জনক ক্রিস্টিয়ান ফ্রিডরিশ সামুয়েল হানেমানের জন্ম জার্মানির স্যাক্সনি রাজ্যে ১৭৫৫ সালের ১০ই এপ্রিল৷ ১৭৭৯ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি৷ ১৭৯৬ সালে নতুন এক চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন হানেমান৷ পরে এই পদ্ধতিকে সুশৃঙ্খল করে নাম দেন হোমিওপ্যাথি৷
রোগীকে অল্প ওষুধ দিয়ে সুস্থ করে তোলাই হোমিওপ্যাথির মূলমন্ত্র৷ চিকিৎসক ও ওষুধ প্রস্তুতকারীরা হোমিওপ্যাথিকে নিজেদের স্বার্থের পরিপন্থী মনে করে হানেমানের বিরুদ্ধাচরণ শুরু করেন সেই সময়৷ এই চাপ সহ্য করতে না পেরে জার্মানি ছেড়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে চলে যান হানেমান৷ সেখানেই তিনি ১৮৪৩সালের ২রা জুলাই মৃত্যুবরণ করেন৷

প্রতিবেদন: রায়হানা বেগম।

বিজয়বাংলা/আশরাফ/১০ আগস্ট ২১

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 2
    Shares