ইসলামী আইন ও সমসাময়িক সমস্যা

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১, সেপ্টেম্বর, ২০২১, বুধবার
<strong>ইসলামী আইন ও সমসাময়িক সমস্যা</strong>

আফফান বিন শারাফুদ্দীনঃ আফগানীদের পপিচাষ ও opium বিক্রি নিয়ে অনেকেই বেশ দ্বিধাগ্রস্থ। অনেকে তো সরাসরিই বলছেন “মাদক বিক্রির টাকায় ওরা ইসলামী ইমারতের ভড়ং না দেখালেই পারতো!”

আসুন ইসলামী আইনের আলোকে এবার বিষয়টা পর্যালোচনা করা যাক।

শত শত বছর ধরে ইসলামী আইনের জগতে সর্বজন সমাদৃত ও বিখ্যাত একটা বইয়ের বক্তব্য দেখুন।

وصح بيع غير الخمر و مفاده صحة بيع الحشيشة الخ
মদ ব্যতীত অন্যান্য নেশাদ্রব্য বিক্রি করা বৈধ, এই কথার উদ্দেশ্য হচ্ছে হাশীশ (একপ্রকার তামাক/মাদক দ্রব্য যার ঔষধি গুনও রয়েছে) বিক্রিও বৈধ।(রদ্দুল মুহতার,৬/৪৫৪)

পাঠক হয়তো এখন প্রশ্ন করবেন, কোরআনে মাদক নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ইসলামী আইনের কেতাবে এমন অদ্ভুত কথা কিভাবে স্থান পায়?

উত্তর হচ্ছে, আইনগ্রন্থ লেখার সময় প্রতিটি বিষয়ের সবদিক লক্ষ্য রাখতে হয়। কোন জিনিসের শুধু একদিক লক্ষ্য করে সামগ্রিক সিদ্ধান্ত ও সাধারণ অধ্যাদেশ জারি করা যায় না। পপিচাষের মাধ্যমে যে মূল কাঁচামাল তৈরী হয় তা শুধু নেশা তৈরীর কাজে লাগেনা। বরং সারা দুনিয়ার অপারেশনের রোগীদের অজ্ঞান করতে যে (অ্যানেস্থেশিয়া) যে মরফিন তৈরী করা হয় তার মূল কাঁচামালও এই আফিম! পৃথিবীর আরো অসংখ্য ওষুধে বিভিন্ন রোগের প্রতিকারে এর ব্যাবহার হাজার বছর ধরে প্রচলিত। তাই কোনভাবেই আমরা এর উৎপাদন ও বিপননকে সামগ্রিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারিনা। এখানে আমাদের একমাত্র করণীয় হচ্ছে এই কাঁচামালের অবৈধ ব্যাবহার রোধ করা।

মাদকের ব্যাপারে কোরআনে যে নিষিদ্ধতার কথা বলা হয়েছে তা প্রযোজ্য হবে এই অপরিশোধিত opium কে কোকেন/অন্য কোন মাদকদ্রব্যে পরিণত করার পরে। মাদকে পরিনত করার আগে এই কাঁচামালের উপরে ইসলামের মদকবিরোধী আইন কার্যকর হবেনা। হওয়াটা যৌক্তিকও না।

এবার ছোট্ট একটা উদাহরণ দিচ্ছি। আপনাদের সামনে বিষয়টা একদম সহজ হয়ে যাবে।
আমরা জানি আঙুর একটা পুষ্টিকর ফল। আবার এ থেকে অ্যালকোহলও তৈরী হয় যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।মনে করুন, ইউরোপের যেসব এলাকা উন্নত প্রজাতির আঙ্গুর ও ওয়াইনের জন্য বিখ্যাত সেসব এলাকায় ইসলামী শাসনব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলো। আমরা জানি যে কেউ চাইলে এখানকার আঙুরের বৈধ অবৈধ দূই ধরনের ব্যাবহারই করতে পারে। এজন্য আমরা কি আঙুর চাষ ও রফতানীর উপরেই ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবো নাকি আমাদের আওতাভুক্ত এলাকায় আঙুরের অপব্যবহার (অ্যালকোহল তৈরী) বন্ধের সর্বাত্মক চেষ্টা করবো? আপনার বিবেকের কাছে কোনটা যৌক্তিক?

উল্লেখ্য, আফগান মুসলিমরা সেখানে পপিচাষ নিষিদ্ধ করছে। (আন্তর্জাতিক মিডিয়াতেও বিষয়টা প্রচারিত হয়েছে) কারন তাদের আফিম উৎপাদনের সুযোগ নিচ্ছে পৃথিবীর বড় বড় ড্রাগলর্ডরা। তাই পরিস্থিতির বিবেচনায় তারা নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষতি মেনে নিতে প্রস্তুত। তারা চাইলেই আইনের ফাঁক গলে নিজেদের ব্যাবসা বৈধভাবে চালিয়ে যেতে পারতো।(আফগানের আফিম ব্যাবসার পিক সিজন ছিলো আমেরিকা থাকাকালীন সময়টা। এবং এর দ্বারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে পশ্চিমা মাফিয়া। এর আগেও তালিবদের আমলে এই ব্যাবসা নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো এবারেও নিষিদ্ধ করা হলো) অথচ তারা সুযোগ নেয়ার বদলে নৈতিকতার দাবীকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাই ইসলামী আইনের দোহাই দিয়ে এই বিষয়ে অন্তত তাদের সমালোচনার কোন প্রকার সুযোগ নেই।

প্রয়োজনীয় কিছু রেফারেন্স:
ফাতাওয়ায়ে উসমানী, ৩/৮৯,তে এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
তানক্বিহু ফাতাওয়াল হামিদিয়্যাহ,৬/৩৬৬।
মাজ্বমুআতুল ফাতাওয়া,২/২৭।
ফাতাওয়া রশিদিয়্যাহ, ৪৮৮।
ক্বিফায়াতুল মুফতী, ৯/১৪৮।

বিজয়বাংলা/এনএ/১/৯/২১

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 51
    Shares