পুরনো গ্রাহকদের ঋণ নেয়ার সুযোগ দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক- ছবি :সংগৃহীত

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১০, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শুক্রবার
<strong>পুরনো গ্রাহকদের ঋণ নেয়ার সুযোগ দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক- ছবি :সংগৃহীত</strong>

অনলাইন ডেস্ক | প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ নেয়ার সুযোগ করে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে যারা একবার ঋণ নিয়েছেন তারা দ্বিতীয়বার ঋণ নিতে পারবেন। বিদ্যমান নীতিমালায় একবার ঋণ নিলে দ্বিতীয় বার এ ঋণ নেয়ার সুযোগ ছিল না। প্রণোদনার কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য নীতিমালা শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মধ্যে রেয়াতি সুদে গত বছরের মতো এবারো ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। গত বছর এ ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। পুরো এক বছরে মোট লক্ষ্যমাত্রার পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করতে পারেনি, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশ। গত বছরের মতো যে পরিমাণ গ্রাহক এ ঋণ নিতে আগ্রহী ছিলেন, এ বছর ওই হারে নতুন গ্রাহক পাওয়া যাচ্ছে না। আবার নীতিমালার কারণে পুরনো গ্রাহকদেরকেও ঋণ বিতরণ করা যাচ্ছে না। ফলে এ খাতে ঋণ বিতরণের কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। সম্ভাব্য আশঙ্কা দূর করতেই পুরনো গ্রাহকদের নতুন করে ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, চলতি মূলধনের যে অংশটুকু গত বছর গ্রাহকরা নিতে পারেননি, অবশিষ্টাংশ এবার নিতে পারবেন পুরনো গ্রাহকরা।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের নীতিমালায় বলা হয়েছিল, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত তহবিলের সহায়তা দেয়া হবে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে। এ আলোকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ ঋণ নিয়েছিল; কিন্তু পরবর্তীতে গ্রাহক না পাওয়ায় চলতি মূলধনের ৫০ শতাংশ, পরবর্তী সময়ে তা আরো বাড়িয়ে শতভাগ মূলধনের জোগান দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়; কিন্তু নীতিমালা দেয়ার শুরুর দিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বড় একটি অংশ ৩০ শতাংশ হারে ঋণ নিয়েছিল।

আবার বলা হয়েছিল, কোনো গ্রাহক একবার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নিলে দ্বিতীয়বার আর ঋণ নিতে পারবেন না। এ কারণে অনেকের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এ প্যাকেজ থেকে ঋণ নিতে পারছেন না। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বেশির ভাগই ঋণ নিয়ে তা ইতোমধ্যে ফেরত দিয়েছেন।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, চলতি বছরে আবারো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এবার সবচেয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে ঋণ বিতরণের ১২ মাসের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যেমন, কোনো ব্যাংকের ৬০০ কোটি টাকার ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতি মাসে ৫০ কোটি টাকা করে ঋণ বিতরণ করতে হবে। কিন্তু কাক্সিক্ষত হারে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা না পাওয়ায় তারা প্রতি মাসে ১০ কোটি টাকারও ঋণ বিতরণ করতে পারছেন না। এভাবে ঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা তা অর্জন নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন তারা। বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকারদের চলমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে।

গতকাল ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে প্রেরিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পুরনো গ্রাহকরা তাদের চলতি মূলধনের অবশিষ্টাংশ ঋণ নিতে পারবে। যেহেতু নতুন উদ্যোক্তা পাওয়া যাচ্ছে না, সে কারণে যারা ইতোমধ্যে শতভাগ চলতি মূলধন ভোগ করেননি, বিশেষ করে প্রথমে ৩০ শতাংশ ও পরে ৫০ শতাংশ চলতি মূলধনের জোগান পেয়েছেন তাদেরকে শতভাগ চলতি মূলধন জোগানোর আওতায় আনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বিদায়ী অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পেরেছে ১৫ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। চলতি বছরে নতুন করে ৩৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নতুন করে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে ১৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। আর ৯টি সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে তিন হাজার ৩০ কোটি টাকা।

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 43
    Shares