প্রচলিত ভুল

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১১, সেপ্টেম্বর, ২০২১, শনিবার
প্রচলিত ভুল

দাওয়াত ও তাবলীগে বিদআতের মিশ্রণ: একটি সতর্ক বার্তা।

 

রাসূলুল্লাহ সাঃ যে সকল জিম্মাদারী নিয়ে দুনিয়াতে এসেছিলেন তার মধ্যে প্রাইমারী লেভেলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিলো মানুষের কাছে ইসলামের বানী পৌছে দেয়া।

 

আল্লাহ তায়ালা এক্ষেত্রে জিহাদ, ইক্বামতে দ্বীন, তা’লীমের মতো দাওয়াতেরও নির্দিষ্ট ও একক কোন পদ্ধতি নির্ধারণ করে দেননি বা বিশেষ কোন কাঠামো নির্ধারণ করে দেননি। বরং কোরআনের আয়াত ও রাসূল সাঃ এর মাধ্যমে শুধুমাত্র উপদেশমূলক কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তাই পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী একজন দা’য়ী যে কোন বৈধ ও কার্যকরী পদ্ধতি অবলম্বন করেই মানুষের মাঝে ইসলামের দাওয়াত পৌছে দিতে পারেন।

 

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমানে দাওয়াত ও তাবলীগের অনেক সাথী তাবলীগের মুরুব্বিদের নির্দেশিত ‘নকশা’ বা কাঠামোকে সুন্নত ও শরীয়ত নির্দেশিত বিষয় মনে করছেন। অথচ হযরতজ্বী ইলয়াস রঃ, শাইখ যাকারিয়া রঃ, মাওলানা ইউসুফ কান্ধলবী রঃ প্রমুখ মুরুব্বিরা এই কাঠামোকে শরীয়ত নির্দেশিত পদ্ধতি হিসেবে না বরং সার্বিক বিবেচনায় আপাত কার্যকরী একটি ‘ওয়ার্কিং মেথড’ হিসেবে সাজেস্ট করেছিলেন।

তাই একে শরীয়ত নির্দেশিত ও সুন্নাহভিত্তিক একমাত্র দাওয়াতী কাঠামো মনে করা নিছক অজ্ঞতা।

 

রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ দ্বীনের ভিতরে কোনো নতুন জিনিসের প্রবর্তন করবে, যার ভিত্তি এ দ্বীনে নেই, তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য। [মিশকাত শরীফ]

 

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে সহীহ বুখারীতে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কেউ যদি নতুন কিছু (বিদআত) সংযোজন করে এবং তা ধর্মীয় রীতিনীতির সাথে সাংঘর্ষিক হয় তা প্রত্যাখ্যাত। [বুখারী ৩য় খণ্ড, হাদিস নং ৮৬১]

 

তাই যা শরীয়ত নির্দেশিত না (যদিও তা মূলগতভাবে বৈধ হয়) তাকে শরীয়তের অংশ ও নির্দেশিত মনে করলে বিদআত বলে গন্য হবে।

 

উদাহরণস্বরূপ, যিকির করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ ও শরীয়ত নির্দেশিত একটি ইবাদত। কিন্তু সামগ্রিকভাবে নামায,রোজা,হজ্ব ও যাকাতের মতো এর কোন নির্দিষ্ট কাঠামো বর্ণিত হয়নি। তাই -পরবর্তীতে প্রচলিত- যিকিরের কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতিকে সুন্নাহ এবং শরীয়ত নির্দেশিত বিষয় মনে করলে সেটা বিদআত বলেই গন্য হবে। (তুর্কি সুফীদের ‘ড্যান্সিং প্রেয়ার’ আর হিন্দুস্তানী সূফীদের ‘যরব’ লাগানো সহ আরো কিছু বিষয় এই ক্যাটাগরিতেই পড়ে)

 

এছাড়া দ্বীনী তা’লীম বা ইসলাম শিক্ষার কোন স্পেসিফিক পদ্ধতি কিংবা নির্দিষ্ট ও পূর্নাঙ্গ কাঠামো শরীয়তে বিবৃত হয়নি। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী যেখানে যাকে যে পদ্ধতি শেখালে সুবিধা হয় সেভাবেই শেখাতে হবে। এখন কেউ যদি শিক্ষার নির্দিষ্ট কোন কাঠামো, সিলেবাসকে শরীয়ত নির্দেশিত ও সুন্নাহের অন্তর্ভুক্ত মনে করে তাহলে তার জন্য সেই পদ্ধতিটা বিদআত বলে গন্য হবে।

 

অতএব, কেউ যদি তাবলীগের মসজিদ ওয়ার পাঁচ কাজ’ সহ পুরো নকশাটাকে অথবা নির্দিষ্ট কোন একটা গাইরে মাসনুন ও গাইরে মা’মুর বিহি নকশাকে সুন্নত মনে করে তার জন্য ওই কাজটি করা বিদআত ও গুনাহের কারন হবে।

আর যদি ঈমানী জিম্মাদারী হিসেবে কেউ ইসলাম প্রচারের কাজে অংশ নেয় কিন্তু এর মেথড গুলোকে নিছক মেথড হিসেবেই গ্রহন করে, সুন্নাহ হিসেবে না। তাহলে নিঃসন্দেহে সে দা’য়ী হিসেবে সওয়াবের অধিকারী হবে।

 

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ধর্মীয় ব্যাপারে সকল ধরনের প্রান্তিকতা থেকে রক্ষা করুন।

আফফান বিন শারফুদ্দিন

 

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন