ইউনিফর্ম ও ফি আদায়ে মানবিক হোন- শিক্ষামন্ত্রী

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১২, সেপ্টেম্বর, ২০২১, রবিবার
ইউনিফর্ম ও ফি আদায়ে মানবিক হোন- শিক্ষামন্ত্রী

ন্যাশনাল ডেস্কঃ ইউনিফর্ম এবং ফি আদায়ের ক্ষেত্রে স্কুলগুলোকে কড়াকড়ি না করার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

দেড় বছর পর বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে রবিবার সকালে দীপু মনি ঢাকার বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন করেন।

আজিমপুর গার্লস স্কুল ও কলেজ পরিদর্শন শেষে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণ যদি আবারো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তাহলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে না রেখে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিকল্প হাতে রয়েছে।

এর আগে স্কুল খোলার ঘোষণা দেয়ার সময় বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছিল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুল-কলেজ খোলার কারণে সব শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা রয়েছে।

তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি এবং সরকারি শর্ত মানা হচ্ছে কিনা তা নজরদারিতে আনতে কর্তৃপক্ষ আকস্মিক পরিদর্শনে যাবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া যেসব বিষয়ে তিনি তথ্য দেন সেগুলো হচ্ছে-

ইউনিফর্ম নিয়ে কড়াকড়ি নয়
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শুধু করোনা নয় বরং তার সাথে ডেঙ্গুরও মৌসুম চলছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসার সময় এডিস মশা বেশি কামড়ায়।

সে কারণে শিক্ষার্থীদের পুরো হাতা জামা, ফুল প্যান্ট-পাজামা পরে আসার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

এ কারণে স্কুল ইউনিফর্ম সম্ভব না হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের বেশি কড়াকড়ি না করার আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “গত দেড় বছরে অনেক শিক্ষার্থী ইউনিফর্মের তুলনায় বড় হয়ে গেছে, এছাড়া এই মুহূর্তে স্কুল ইউনিফর্ম সব অভিভাবকের পক্ষে তৈরি করা সম্ভব নাও হতে পারে”।

ফি আদায়ে মানবিক হোন
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “স্কুল কর্তৃপক্ষকে ফি আদায়ে মানবিক হতে হবে”।

তিনি বলেন, যেসব ফি নেয়াটা প্রয়োজন সেই ফি-ই এখন আদায় করা যাবে। এ তবে এখানে যদি কোন শিক্ষার্থী ফি দিতে অপারগ হয় তাহলে সেখানে মানবিক আচরণ করতে হবে।

“করোনাভাইরাসের কারণে কোন শিক্ষার্থীর পরিবারে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটে গেলে, ফি পরিশোধের বিষয়ে তাদেরকে কিস্তিতে পরিশোধ করা যায় কিনা সেটি বিবেচনায় নিতে” শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করেন তিনি।

“এক্ষেত্রে অমানবিক আচরণ করা যাবে না। মানবিক আচরণ করে যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিতে হবে”।

তবে স্কুল পরিচালনা, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রভৃতিও শিক্ষার্থীদের বেতনের উপর নির্ভর করে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “অভিভাবকদেরও এ বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে”।

অন্যান্য খরচের সাথে যাতে স্কুলের বেতনও দেয়া সম্ভব হয় সে বিষয়ে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকতে হবে।

সিলেবাস পরিবর্তন
যাদের একদিন ক্লাস হবে তাদের কিছুটা ক্ষতি হবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মুখোমুখি ক্লাস একদিন হলেও তাদের অ্যাসাইনমেন্ট চলবে, অনলাইনে ক্লাস চলবে, টেলিভিশন ক্লাস চলবে।

“এক্ষেত্রে পরীক্ষা নেয়ার মতো পরিস্থিতি হলে তাদের অবশ্যই পরীক্ষা নেয়া হবে”, বলেন দীপু মনি।

শিক্ষার্থীরা যে ‘গ্যাপ’ বা ক্ষতির মুখে পড়েছেন তা কিভাবে পূরণ করা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, “সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যে সিলেবাস কমানো হবে, নাকি চলতি শিক্ষাবর্ষকে বাড়ানো হবে নাকি পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে অতিরিক্ত ক্লাস বা রেমেডিয়াল ক্লাস করিয়ে সেটি পুষিয়ে নেয়া হবে।”

এ বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

অভিভাবকদের স্কুলের সামনে অপেক্ষা না করার অনুরোধ
স্কুলের ভেতরে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রবেশ করতে দেয়া না হলেও অনেক অভিভাবকই সন্তানকে স্কুলে দিয়ে বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন। এ বিষয়টি করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, অভিভাবকরা যাতে স্কুলের বাইরে অপেক্ষা না করেন।

আর যাদেরকে অপেক্ষা করতেই হবে বা ফেরত যেতে পারবেন না তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরস্পর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

“অভিভাবকরা যদি সবাই এভাবে বাইরে এভাবে ভিড় করেন তাহলে এটাই স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হবে,” বলেন তিনি।

এক্ষেত্রে সামাজিকভাবে নজরদারি করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে?
বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সিন্ডিকেট এবং একাডেমিক কাউন্সিলের বিষয় বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

গত ২৬শে অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সাথে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে মধ্য অক্টোবরের কথা জানানো হয়েছিল।

স্কুল যেহেতু খোলা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আগে খোলা যায় কিনা সে বিষয়ে আবারো বৈঠকে বসার কথা জানান তিনি।

এরইমধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া হয়ে গেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনাবাসিক শিক্ষার্থীদেরও কমপক্ষে এক ডোজ টিকা দেয়ার পর ক্যাম্পাসে ফেরাতে চান বলে জানান মন্ত্রী।

সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হবে তবে এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তারাই নেবেন বলেও জানানো হয়।

এছাড়া ১২ বছরের উপরে শিক্ষার্থীদের টিকার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু জটিলতা এবং সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে পর্যায়ক্রমে তাদেরকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা হবে।

বিজয়বাংলা/এনএম/১২/৯/২১

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 18
    Shares