শিশু শিক্ষার পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত? পর্ব ১

বিজয়বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত ১৫, সেপ্টেম্বর, ২০২১, বুধবার
শিশু শিক্ষার পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত? পর্ব ১

 

 

শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে অনেক আগে থেকেই। তবে উন্নত দেশগুলোতে যেভাবে শিক্ষার প্রসার ঘটানো সম্ভব হয়, উন্নয়নশীল দেশে তার সিংহভাগই হয়ে ওঠে না। যেটুকু হয় তার প্রায় সবটুকুই শিশু পর্যায়ের উপরের স্তরে, শিশুদের স্তরে নয়। আজকের আলোচনাকে শিশুদের জন্য শিক্ষার টুকিটাকি সূক্ষ্ম বিষয়ে আলোকপাত করব।

প্রথমেই আসি শিক্ষা বলতে আমরা আসলে কি বোঝাতে চাই। যদিও শিক্ষাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গীতে সম্পূর্ণরুপে ব্যখ্যা করা সম্ভব নয় তথাপি সাধারনভাবে শিক্ষা হচ্ছে, প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতার ফলে আচরনের রুপান্তর। শিক্ষা শুধুমাত্র দক্ষতা অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়; অনেক মনোভাব, রীতি ও মানসিকতাও শিক্ষার অন্তর্ভূক্ত। শিশুর জীবনে বেঁচে থাকার জন্যে, মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

প্রায় সব মনোবিজ্ঞানীই স্বীকার করেন যে মানব জীবনের সহজাত সাধারন পত্যআগতি প্রতিক্রিয়া ব্যতীত সকল আচরনই শিক্ষা লব্ধ।

শিশু শিক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতি ও এই বিষয়ক বিভিন্ন চিন্তা কিভাবে পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান সময়ে এসেছে সেদিকে এবার দৃষ্টি দেয়া যাক।

বিংশ শতাব্দীতে শিশুর উপযুক্ত শিক্ষা পদ্ধতি নির্বাচনের হিড়িক পড়ে যায়। কিভাবে শিশুকে শিক্ষা দিলে অধিক ফলপ্রসূ হবে এ নিয়ে শিশুমনোবিদেরা বিভিন্ন গবেষনা চালান।

শিক্ষার ইতিহাসধরা পর্যালোচনা করলে আমরা যেমন শিক্ষা জগতে যুগান্তকারী মনীষীর ভাবধারার সাথে পরিচিত হতে পারি তেমনি তাদের শিক্ষানীতি, শিক্ষা প্রণালী সম্পর্কে অবগত হতে পারি।

শিশু শিক্ষায় সর্বপ্রথম যিনি শিশুকে অগ্রাধিকার দেন তিনি হচ্ছেন জী জ্যাকস্ রুশো (Jean Jacques Rousseau)। শিশুর স্বভাব, রুচি, শক্তি ও আগ্রহ অনুযায়ী শিশুকে শিক্ষাদানের কথা সর্বপ্রথম তিনি তার “এমিন” গ্রন্থে প্রকাশ করেন।

রুশোর পরে পেস্তালাৎসী (Pestalozzi) ইতিবাচক, গঠনমূলক, আদর্শভিত্তিক, হাতে-কলমে প্রতক্ষ জ্ঞানভিত্তিক এক শিক্ষা পদ্ধতি প্রচলন করেন। তার আবিষ্কৃত “table of units, table of fractions, alphabet of farm” ইত্যাদি তাঁর প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতিরই নির্দেশক।

আজ এ পর্যন্তই, কাল শিশুশিক্ষার ব্যাপারে ফ্রয়েবেলের কিছু প্রায়োগিক পদক্ষেপ নিয়ে কথা হবে।

মেজর ইঞ্জিঃ হামিম উদ্দিন  

 

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন